খাদ্য নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন কর্মকর্তারা

0
5

কিশোরগঞ্জ : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কিশোরগঞ্জে খেটে খাওয়া মানুষ বেশ বেকায়দায় রয়েছে। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের। প্রতিদিনের খাবার সংগ্রহ করতেই হিমশিম খাচ্ছে তারা। এ দুর্ভোগে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে তাদের।
জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম জাফরাবাদ গ্রামের অসুস্থ ফাতেমা আক্তার (৬৫) স্বামী হারিয়েছেন বেশ কয়েকবছর আগে। ছেলে আল-আমিন রাজধানী ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করতেন। ২৬ মার্চ সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ দিনেই খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান তিনি। এ অবস্থায় খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করছিলেন তারা। বিষয়টি জানার পর করিমগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তসলিমা নূর হোসেন আজ শনিবার নিজে পরিবারটির খোঁজ নিতে বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে পরিবারটিকে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু ও দুই কেজি ডাল সহায়তা হিসেবে দেন। একই সঙ্গে আরো সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাফরাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন ফকির মিলন।

আমলিতলা বাজারে সেলুনে কাজ করতেন আনোয়ার হোসেন (৪০)। সেলুনে কাজ করে যে কয় টাকা পেতেন তা দিনে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে চলত তার। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তার রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে। দু-দিন কোনো রকমে পার করলেও আজ তার হাত খালি। চাল-ডাল কেনার টাকা নেই। লজ্জায় এ কথা কাউকে বলতেও পারছিলেন না। জাফরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি জেনে তার নামটি তালিকায় রাখতে ইউএনওকে অনুরোধ করেন। তিনি আজ দুপুরে আনোয়ারের হাতেও তুলে দেন খাদ্য সামগ্রী।
শুধু আনোয়ার নয়, খাদ্য সঙ্কটে পড়া ইউনিয়নের গোটা ত্রিশেক লোক দুপুরে হয়েছিল জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। তারা নিরাপদ দূরত্বে বসে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিল সরকারি খাদ্য সহায়তার। দুপুর একটার দিকে পিকআপ ভ্যানে চাল-ডাল-আলু নিয়ে সেখানে হাজির হন ইউএনও। খাদ্যের বস্তাগুলো মাঠে রাখা হয় স্তুপাকারে। পরে দুর্ভোগের শিকার অভাবী লোকজন সেখান থেকে একটি করে বস্তা নিয়ে খুশি মনে বাড়ি যান। এর আগে উপজেলার কিরাটন ইউনিয়নের ফকিরপাড়ায় রিকশাচালক, ঝালমুড়ি বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা, বেকার ও ভিক্ষুকসহ আরও অন্তত অর্ধশত লোকের কাছে এভাবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এভাবে সারা দিনব্যাপী চলে চাল-ডাল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার তৎপরতা।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী মহিনন্দ ইউনিয়নে দুদর্শাগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনিও এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে করোনাভাইরাসের কারণে বিপাকে পড়া লোকজনের খোঁজ-খবর নেন। তাদের হাতে তুলে দেন খাদ্যসামগ্রী।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবদুল্লাহ আল মাসউদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদির মিয়া, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান, আব্দুস সাত্তার ও মাসুমা আক্তার প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক জানান, আজ থেকে ১৩টি উপজেলায় ১০ হাজার হতদরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। কালকের মধ্যে তালিকাভুক্ত সবাই ঘরে খাবর পেয়ে যাবে। এর জন্য ১০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরো বরাদ্দ পাওয়া গেলে একইভাবে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে খাদ্য সামগ্রী। এ সময় তিনি সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কেউ খাদ্য কষ্টে থাকবে না, জেলা প্রশাসন তার সবটুকু দিয়ে মানুষের পাশে থাকবে।
তবে স্থানীয় লোকজন বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে কাজকর্ম না থাকায় সবাই কষ্টে আছে। অনেকে লজ্জায় সমস্যার কথা বলছে না। তাদেরও খুঁজে বের করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া উচিত। তাছাড়া এ দুঃসময়ে সরকারি বরাদ্দ ও এর ব্যাপ্তি আরো বাড়ানো দরকার। যেন ক্ষতিগ্রস্ত সবাই এর সুবিধাটুকু পায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here