Home মতামত ইসরাইলের দখলীকরণের শেষ কোথায়?

ইসরাইলের দখলীকরণের শেষ কোথায়?

by domaist
18 views

গত ১ জুলাই ছিল ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পশ্চিম তীর ও জর্দান উপত্যকার ৩০ শতাংশ ভূমিকে ইসরাইলের অংশ করে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার দিন। নেতানিয়াহু এই দিনই চূড়ান্ত ঘোষণাটি দেননি। তবে বলেছেন, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি।’ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এ কাজ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে।

এ ব্যাপারে নেতানিয়াহু আগের দিন রাতে জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত অ্যাভি বারকোভিটস এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেডম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং একীভূতকরণের বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলেছেন। আগামী দিনেও কাজ চালিয়ে যাবেন। হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরামর্শদাতাদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনার পরে একমত হতে ব্যর্থ হওয়ার পরে এই সপ্তাহে নতুন করে আলোচনা চলছে।

এর মধ্যে গাজায় হামাস কর্মকর্তারা প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহকে অসলো শান্তি প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করে আবার একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরাইলি নিরাপত্তা ও সামরিক প্রধানরা উদ্বিগ্ন যে গাজায় সশস্ত্র দলগুলোর সাথে হামাসের সংযুক্তি আরেকটি যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। যদিও বিশ্লেষকরা মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন যে হামাস সম্ভবত কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে পিএ’র প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষা করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রদূত, বিশেষ দূত অ্যাভি বারকোভিটস এবং রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেডম্যান পশ্চিম তীর ও জর্দান উপত্যকা দখলের সম্মত সূত্রের সন্ধানে নেতানিয়াহুর সাথে বিগত সপ্তাহজুড়ে কাজ করেছেন। তার মানে হলো দখল প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে। কেবল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটির ব্যাপারে একটি সমাধান সূত্রে পৌঁছার চেষ্টা হচ্ছে।

ইসরাইলের রাষ্ট্রসমর্থিত গোয়েন্দানির্ভর বেসরকারি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ডেবকাফাইল বলেছে, আমেরিকান টিম এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার আলোচনার টেবিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মূলত একটি মার্কিন প্যাকেজ চুক্তি রয়েছে। নেতানিয়াহু পশ্চিম তীর ও জর্দান উপত্যকার ৩০ শতাংশ ইসরাইলের মানচিত্রভুক্ত করার বিষয়ে তার সিদ্ধান্তকে বহাল রাখবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী ইসরাইলের এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিরোধিতা করা এবং যুক্তরাজ্যেরও একতরফাভাবে সংযুক্তকরণকে সমর্থন না করার কারণে সম্ভবত কিছু সময় নেয়া হচ্ছে। তবে আগামী নভেম্বরে আমেরিকান নির্বাচনের আগেই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে শেষ করা হবে বলে ইসরাইলি মিডিয়ায় বলা হচ্ছে।

আমেরিকানরা সম্ভবত দখলীকরণ প্রক্রিয়াটিকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য করার জন্য রিয়াদ আবুধাবি ছাড়াও জর্দান এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কোনো একটি অংশের সমর্থন পেতে চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবেই হয়তো ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ পরিচালক ইয়োসি কোহেনকে নেতানিয়াহু বিশেষ মিশনের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি গত সপ্তাহে আম্মান সফর করেন। বলা হচ্ছে জর্দানের বাদশাহ আবদুল্লাহ কোহেনকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপাতত দখলীকরণের পরিকল্পনা বাদ দেয়া এবং তা পশ্চিম তীর ও জর্দান উপত্যকার ইসরাইলের সাথে গ্রিন লাইন সীমান্তের নিকটবর্তী দুটি বা তিনটি বন্দোবস্ত ব্লকের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব রেখেছিলেন। নেতানিয়াহু এ ধরনের কোনো প্রস্তাব বিবেচনা করবেন বলে মনে হয় না।

ইতোমধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীর এবং জর্দান উপত্যকার ইহুদি জনবসতিগুলোকে ‘সংযুক্ত’ করার পদক্ষেপ নিয়ে ইসরাইলকে ধীরে ধীরে প্রসারিত করার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো আইনকে বিবেচনা না করেই ইসরাইল বেপরোয়া ও অবিচ্ছিন্নভাবে অগ্রসর হবে বলেই মনে হয়।

ইসরাইল সরকার কী চায়?
প্রধানত, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার বলেছে যে, অবৈধ বসতিগুলোর ব্লক, কৌশলগত জর্দান উপত্যকা এবং উত্তর মৃত সাগরসহ পশ্চিম তীরের প্রায় ৩০ শতাংশ ভূমি ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
কর্মকর্তারা ইসরাইলি গণমাধ্যমকে ইঙ্গিত করেছেন যে, প্রতিবেশী জর্দানকে কিছুটা প্রশ্রয় দেয়ার চেষ্টায় পর্যায়ক্রমে কাজ করা যেতে পারে। এর আগে বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ সতর্ক করেছিলেন যে অন্তর্ভুক্তকরণ ‘বিশাল সঙ্ঘাত’ ডেকে আনতে পারে।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি কী?
ইসরাইলের মানচিত্র সম্প্রসারণের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিপজ্জনক। প্রথমটি পশ্চিম তীরের অঞ্চল ‘সি’-এর সব অংশকে সংযুক্ত করা। এই অংশটি অসলো চুক্তির অধীনে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় চার লাখ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী। জর্দান উপত্যকা এবং জর্দান উপত্যকার সব অবৈধ বসতি এর অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় পরিকল্পনাটি কেবল ইসরাইলের দখলেই জর্দান উপত্যকা দেখা যাবে। সম্পদ সমৃদ্ধ এবং অত্যন্ত কৌশলগত, জর্দান উপত্যকায় বর্তমানে ৫৬ হাজার ফিলিস্তিনি এবং ১১ হাজার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী আছে।

তৃতীয় দৃশ্যে, ইসরাইল মালে আদুমিম, আরিয়েল এবং গুশ ইটজিওনের প্রধান বসতিকে সংযুক্ত করবে, যেখানে একসাথে প্রায় ৮৫ হাজার ইসরাইলি রয়েছে। মাওল আদুমিম দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেম এবং পশ্চিম তীরের মধ্যে বিস্তৃত। গুশ ইটজিওন পবিত্র ফিলিস্তিনি শহর বেথলেহেমে অবস্থিত এবং এরিয়েল এই অঞ্চলের মাঝখানে নাবলাস সংলগ্ন।

এই অঞ্চলগুলোকে একত্র করার ফলে জেরুসালেম এবং বেথলেহেম থেকে পশ্চিম তীরের অনেক অংশ ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তা ভবিষ্যতের কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের কেন্দ্রস্থলে ইসরাইলি ছিটমহল তৈরি হবে।

সংযোজন কখন হতে পারে?
নেতানিয়াহু এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেড়ন গ্যান্টজের স্বাক্ষরিত জোট চুক্তি অনুসারে ১ জুলাই দখলীকরণের আইন প্রস্তাব করার কথা। এ সময়ে কেবল আইনসভা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, তবে খসড়াটি বিভিন্ন কমিটি ও পাঠের মধ্য দিয়ে ইসরাইলের সংসদ, নেসেটে উপস্থাপনের আগে প্রকাশিত হবে। সেই প্রক্রিয়াটিতে খসড়া পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা যেতে পারে, যা কয়েক সপ্তাহ সময় নিতে পারে, যদিও কোনো প্রস্তাব খুব বেশি ঝামেলা ছাড়াই সংসদে যাওয়ার জন্য সরকারের দলগুলো একমত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংযুক্তি কি আইনসম্মত?
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দখলকৃত অঞ্চল একতরফাভাবে একত্রীকরণ অবৈধ। ইসরাইলি সরকার এটিকে ‘সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করতে পছন্দ করে। বৈধতাকে এর আগে ইসরাইল খুব একটা তোয়াক্কা করেনি। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর থেকে পূর্ব জেরুসালেম এবং সিরিয়ার গোলান হাইটসকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বারা স্বীকৃত নয় এমন পদক্ষেপে ইসরাইল নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে। মূলত, ইসরাইলের কোনো সংযুক্তি সামরিকভাবে দখলকৃতভাবে এ অঞ্চলের অবস্থান পরিবর্তন করবে না।

ফিলিস্তিনিদের কী হবে?
পূর্ব জেরুসালেম এবং গোলানের বাসিন্দাদের মতো পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলের নাগরিকত্ব বা স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রস্তাব দেয়া হবে না। পরিবর্তে সরকারপন্থী পত্রিকা ইসরাইল হায়মকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিরা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে বাস করবে, ইসরাইলি হিসেবে বিবেচিত অঞ্চল দিয়ে ঘেরাও হয়ে থাকবে তারা। জর্দান উপত্যকাটি কিভাবে যুক্ত হবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, জেরিকো শহর নামমাত্র পিএ শাসনের অধীনে থাকবে, ফিলিস্তিনের অন্যান্য শহর ও গ্রাম ইসরাইলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

জর্দান উপত্যকার ইসরাইল সংযুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গত ৩০ জুন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন যে, করোনাভাইরাস মহামারী কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত সংযোজনে বিলম্ব হবে। ইসরাইলের জোট সরকার কোভিড-১৯ সামলানোর জন্য জরুরিভাবে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে গঠিত হয়েছিল। নেতানিয়াহু জবাব দিয়েছেন যে, খসড়া আইন প্রণয়ন করা হবে কি না তা গ্যান্টজের হাতে নয়, বরং আমি তা উপস্থাপন করব। তবে গ্যান্টজের সংসদ সদস্যদের সমর্থন ছাড়া তা পাস করার সুযোগটি সীমিত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে, ইসরাইলের আন্তর্জাতিক সহযোগী ও অংশীদারদের মধ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয় করে অবশ্যই যেকোনো একীভূতকরণ করতে হবে।

আমেরিকা কোথায় দাঁড়িয়ে?
ওয়াশিংটন তার কার্ডগুলো অনেকটা নিজের কাছে ধরে রেখেছে। ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের সমাধানের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত ‘শতাব্দীর চুক্তি’ প্রকল্পের একটি মূল উপাদান ছিল সংযুক্তি। তবে, এটি একটি ‘স্বাধীন’ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিরোধমূলক ধারণা রয়েছে। ইসরাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেডম্যান দৃঢ়ভাবে বসতি স্থাপনকারী এবং বৃহৎ আকারের একতরফা সংযুক্তির পক্ষে। তবে এটি কার্যকরভাবে ট্রাম্পের বহুল চুক্তিটিকে হত্যা করবে, যা গত জানুয়ারিতে প্রকাশ হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা গত সপ্তাহের পরামর্শের পরে তাদের অবস্থানের রূপরেখা হিসেবে একটি বিবৃতি দেবেন বলে আশা করা হয়েছিল, তবে এখন পর্যন্ত তারা তা করা থেকে বিরত রয়েছেন।

ইসরাইলি জনগণ কি এই পরিকল্পনার সমর্থক?
মার্চ মাসে নেতানিয়াহুর সর্বশেষ নির্বাচনী প্রচারে দখলীকরণ ছিল ইশতেহারের একটি মূল অঙ্গীকার। এটি তাকে সর্বাধিক নেসেট আসনগুলোতে জয়লাভ করতে সহায়তা করেছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী গ্যান্টজের সাথে তার চুক্তির দরজা খোলার পরেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে কম আসন পেয়েছেন। তবে এমনকি ইসরাইলিদের মধ্যে যারা দখলীকরণকে সমর্থন করেন তাদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। একটি অংশ ইসরাইলি বসতি বাদ দিয়ে পশ্চিম তীর নিয়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা সমর্থন করেন। অতি-জাতীয়তাবাদীরা ভূমধ্যসাগর এবং জর্দান নদীর মধ্যবর্তী সব জমিকে বৃহত্তর ইসরাইল হিসেবে দেখেন।

ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া কী হয়েছে?
ফিলিস্তিনের নেতৃত্ব এবং জনগণ ক্রোধের সাথে এই প্রক্রিয়ায় জড়িত হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) মে মাসে বলেন যে, এটি ইসরাইল ও আমেরিকার সাথে সব চুক্তি এবং বোঝাপড়ার অবসান ঘটিয়েছে। যদিও নিরাপত্তা সমন্বয় বহুলাংশে এখনো বজায় রাখা হয়েছে, অন্যান্য আমলাতান্ত্রিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। এর মারাত্মক একটি ফলাফল রয়েছে বলে মনে করা হয়। অবরোধ করা গাজা উপত্যকা ও ইসরাইলের মধ্যে চিকিৎসা স্থানান্তর এর মধ্যে অচল হয়ে পড়েছে এবং এই মাসের শুরুতে দু’জন গুরুতর অসুস্থ শিশু মারা গেছে। পিএ এটাও বলেছে যে তারা অসলো চুক্তি ছিন্ন করবে এবং কোনো সংযুক্তি ঘটলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যে দেশগুলো সাধারণত নির্বিঘ্নে ইসরাইলকে সমর্থন করে তাদের কেউই এই ইস্যুতে তেল আবিবকে সমর্থন করছে না। সর্বশেষ উন্নয়নে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল সম্পর্কিত ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার কার্যকর কোনো ভূমিকা যে ছিল না তাতে সন্দেহ নেই। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা এমন একটি দলের মতো আচরণ করেছিল যেন ইসরাইলের মুখপত্র হিসেবে তারা আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনে ইসরাইল কেবল ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গঠিত ইহুদি বন্দোবস্ত ইউনিটগুলোর দখল করেছে।

ইসরাইল যে অঞ্চলগুলোতে দখল প্রতিষ্ঠা করেছে তার মধ্যে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের আশপাশে দেয়ালও তৈরি করছে। তারা সব সময় ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব অবৈধ বসতি অঞ্চলগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। এ ধরনের প্রাচীর বসতি অঞ্চলগুলোর আশপাশে নয় বরং প্রতিবেশী ফিলিস্তিনিদের চার পাশে নির্মাণ করা হয়েছে যার ফলে ফিলিস্তিন অঞ্চলটি তাদের জন্য বন্দিশিবিরে পরিণত হয়েছে।

ইসরাইল সব সময় দেশটির নিরাপত্তার দোহাই দেয়। আসলে নিরাপত্তা হলো বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার অন্যতম কপট ধারণা। বিভিন্ন ধরনের বেআইনি অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য এটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যদি আজ কোনো নিরাপত্তা হুমকি থাকে তবে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলিদের প্রতি সে হুমকি সৃষ্টি করেছে, এর বিপরীতটি একেবারেই অসত্য। ইসরাইল ১৯৬৭ সালের পর থেকে ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মানচিত্র কিভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তা দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আমরা দেখি যে ফিলিস্তিনের অন্তর্গত এই ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ অংশটি কিভাবে এই সময়সীমার মধ্যে ধীরে ধীরে এবং পুরোপুরি ইসরাইলের রঙ ধারণ করেছে।

ইসরাইল কেবল ফিলিস্তিনিদেরই নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই কার্যত হুমকি। আরব ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের সাথে গোলান হাইটস ইসরাইলের সাথে সংযুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে এর নেতৃত্ব। ইসরাইলের দখলে থাকা কোনো অঞ্চলকে সংযুক্ত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন এবং নীরবতাকেই দেশটি যথেষ্ট বিবেচনা করছে।

করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে বিশ্ব যখন ব্যস্ত, তখনো ইসরাইল ব্যস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড অধিগ্রহণের জন্য। তবে, এই মুহূর্তে যে পদক্ষেপ ইসরাইল নিচ্ছে তা পুরো বিশ্বকে ক্ষুব্ধ করার পক্ষে যথেষ্ট। একসময় এ জন্য মূল্য দিতে হবে ইসরাইলকে।

মাসুম খলিলী

mrkmmb@gmail.com

You may also like

Leave a Comment