Home অর্থনীতি এবার কোরবানির পশু কেনা-বেচায় থাকবে ভারসাম্য

এবার কোরবানির পশু কেনা-বেচায় থাকবে ভারসাম্য

by domaist
162 views

ঢাকা: করোনা পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশু কেনা-বেচায় ভারসাম্য থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে লাভবান হবেন খামারিরা।

এদিকে বিগত বছরগুলোতে পশু সম্পদ খাতে সরকারের নেয়া নানামুখী পদক্ষেপের ফলে দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু-ছাগল পালন হওয়ায় গতবারের মতো এবারো ভারতীয় গরুর উপর নির্ভর করতে হবে না। দেশি পশু দিয়েই মিটবে চাহিদা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে মোট গরু, ছাগল ও মহিষের সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি পশু। গত কোরবানির ঈদে ১ কোটি ১৭ লাখ গরু, ছাগল, মহিষ প্রস্তুত ছিল। কোরবানিতে পশু জবাই হয়েছিল ১ কোটি ৬ লাখ। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় যোগান ১১ লাখ বেশি ছিল।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (খামার) ড. এ বি এম খালেকুজ্জামান  জানান, কোরবানির জন্য সারা দেশে ৬০ লাখ গরু প্রস্তুত আছে। তবে করোনার কারণে এবার পশু বিক্রি কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পশু কম বিক্রি হওয়ার কিছু লক্ষণ মিলেছে মাঠ পর্যায়েও। ঈদের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও খামারিরা দেখা পাচ্ছেন না ফড়িয়াদের (ব্যবসায়ী), যা আগে কখনো হয়নি।

তরুণ উদ্যেক্তা সিরাজগঞ্জের খামারি মুক্ত জানান, গত বছর দুই মাস আগে থেকেই ফড়িয়ারা খামারে এসে গরু দেখে গেছেন। আর এবার তাদের কোন খোঁজ নেই, তাই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। দোটানায় আছি গরু নিয়ে ঢাকায় যাব কিনা।

আবার ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, গত ঈদুল আযহার পর থেকে গরুর মাংসের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ কোটি টাকার গরু জবাই করেছেন মাংস বিক্রেতারা। তবে গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দিনে গড়ে ১০ কোটি টাকার বেশি গরু কেনাবেচা হয়নি। সেই হিসেবে এই সময়ের বেশ কিছু গরু রয়েছে।

তাই ধারণা করা হচ্ছে, কোরবানি দেয়ার জন্য প্রচুর গরু এখন দেশেই মজুদ আছে। কোনভাবেই নির্ভর করতে হবে না ভারতীয় গরুর উপর।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের কাছে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে এবার হাটে পশু বিক্রি কম হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, করোনায় সীমান্ত বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে এবারও ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসবে না। তবে দেশে যে পশু আছে, কোরবানির জন্য তা যথেষ্ট।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের হাতেও টাকা নেই। খামার থেকে হাটে গরু নিয়ে আসার মতো পুঁজি নেই অনেকের। তাছাড়া এবার ট্রাক ভাড়াও বেশি। তাই অনেক ছোট খামারির পক্ষে হাটে গরু নিয়ে আসা সম্ভব হবে না।

এইসব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এবার হাটে পশুর আমদানি যেমন কম থাকবে, তেমনি কম থাকবে ক্রেতাও। তাই পশু কেনা-বেচায় থাকবে ভারসাম্য। তবে চাহিদা-যোগানের ভারসাম্য নষ্ট হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বিক্রেতা কিংবা ক্রেতা।

বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউটিউবার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান আজিজ জানান, এবার বড় খামারিরা ৬০ শতাংশের বেশি পশু হাটে আনতে পারবেন না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে পশু বিক্রি কম হবে এমনটা ধরেই নিয়েছেন তারা। আবার পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এমন সংখ্যক পশু হাটে আনবেন না যাতে তা অবিক্রিত থেকে যায়। পরে সেসব পশু আবার ট্রাক ভাড়া করে ফিরিয়ে নিতে হলে লোকসান হবে।

তিনি আরো বলেন, এবার অনেক ছোট খামারির কাছে গরু নেই। করোনায় অর্থ সংকটে পড়ে গত রমজানেই তারা পশু বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই এবার ক্রেতাও কম, গরুও কম। এতে বাজারে ভারসাম্য থাকতে পারে।

You may also like

Leave a Comment