পরীক্ষা ছাড়াই উত্তীর্ণের সিদ্ধান্ত আসতে পারে, তবে…

0
4

ঢাকা: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নটরডেম কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করে দিলেও এ বিষয়ে এখনই কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত আসছে না। তবে পরিস্থিতি স্বভাবিক না হলে এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র বলছে, আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না এলে এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্ত শিগগিরই আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শ্রেণি কার্যক্রম একরকম বন্ধ হয়ে আছে। অনলাইন কিংবা টেলিভিশনে ক্লাস চললেও সেখানে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি যদি আরো খারাপ হয় তাহলে এসব শিক্ষার্থীরা কি ‘বছর লস’ করবে?

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সাব কমিটির সমন্বয়ক মু. জিয়াউল হক বলেন, তেমনটা হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। তাছাড়া আমাদের হাতে এখনো পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ছাড়া পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনো আসেনি। আর এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা না করে নেয়া হবে না।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আগস্ট মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হওয়ার কথা। এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হয়নি প্রথম সাময়িক পরীক্ষাও। সেক্ষেত্রে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার ভাগ্যও পড়েছে হুমকির মুখে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লা বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও পড়াশোনা কিন্তু চলছে। টেলিভিশনে শ্রেণি কার্যক্রমে ভালো সাড়া আসছে। তবে করোনাকাল দীর্ঘায়িত হলে যদি পরীক্ষা না হয় তাহলে আমরা তো আর শিক্ষার্থীদের একই ক্লাসে বসিয়ে রাখতে পারি না। সেক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, সারাদেশে সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী টেলিভিশন ক্লাসে অংশ নিতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে ফসিউল্লা বলেন, যেকোনো উপায়ে পাঠ্যক্রম শেষ করতে হবে। এটি করা না গেলে পরবর্তী ক্লাসে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো শ্রেণি কার্যক্রম বুঝতে পারবে না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মার্চের ১৮ তারিখ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এবং ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও আটকে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here