Home Featured left রাজস্ব হারাচ্ছে রেল

রাজস্ব হারাচ্ছে রেল

by Channel 52us 52us
19 views

করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার ২৫ মার্চ থেকে দেশের সব যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করে। যার ফলে দিনে ৪-৫ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে রেলওয়ের। শুধু কয়েকটি মালবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু থাকে, যা থেকে গত ৪ মাসে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে বলে রেলসূত্র জানিয়েছে। তার পরে গত ৩১ মে থেকে বর্তমানে ১৭ জোড়া ট্রেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালাচ্ছে রেলওয়ে। এতে ২ আসনে একজন যাত্রী নিয়ে চলতে হচ্ছে ট্রেনগুলোকে। এতে লোকসানের বোঝা দিনে দিনে বাড়ছে। কোনো কোনো ট্রেনে ৭৫০টি আসন থাকলেও ২০০-২৫০ যাত্রীও জুটছে না। এমতাবস্থায় ট্রেনের ফুয়েল, ড্রাইভার গার্ডসহ সব ধরনের সংস্থাপনগত খরচ একই থাকায় বড়সড় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে রেলওয়েকে। গত অর্থবছর (২০১৮-১৯) সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা অনেকাংশে বেড়ে ২ হাজার থেকে ২.৫ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে, লোকসানের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

যদিও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী ট্রেন চালানোর দিকে বিশেষ নজর দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার, মালামাল বহন করা হলেও পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি, রাজশাহী থেকে আম ও সর্বশেষ ভারত থেকে মরিচ, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, পাথরসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি আনতে চুক্তি করে রেলওয়ে। যার ফলে লোকসানের বোঝা কিছুটা হলেও কমতে শুরু করে। পার্সেল পরিবহনের ফলে রেলের গত ৪ মাসে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৫ মার্চ থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তাতে প্রায় রেলের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। গত ৩১ মে থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চললেও লোকসান বহাল রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন ২ লাখ ৭৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করে রেলওয়ের ৪-৫ কোটি টাকা রাজস্ব আসত। রেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় রাজস্ব হারাচ্ছে রেলওয়ে। তবে ট্রেন বন্ধ থাকলেও মেইটেনেন্স খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দিতে হবে। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়েতে মোট ৩৬৪টি ট্রেন আছে। মোট জনবল রয়েছে ২৬ হাজার ১৩৫ জন।

রেলসূত্র বলছে, রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি অর্থবছর ৮ কোটি যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা করেছিল রেলওয়ে। পাশাপাশি মালামাল পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩২ লাখ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্ম-সম্পাদন চুক্তিতে (এপিএ) যাত্রী, মালামালসহ রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১০ শতাংশ। চলতি অর্থবছর যাত্রী পরিবহন বাবদ রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একইভাবে মালামাল পরিবহনে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

অর্থবছরে একাধিক নতুন ট্রেন চালু ও নতুন কোচ সংযোজনের কারণে রাজস্ব আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধির আশায় ছিলেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তবে করোনার কারণে রেলের সব পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়ে লোকসানের বিপুল বোঝা ঘাড়ে চাপবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

You may also like

Leave a Comment