Home Uncategorized

by Channel 52us 52us
33 views

তুরস্কের এজিয়ান উপকূলীয় শহর ইজমিরে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে তুরস্ক ও গ্রিসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার শতাধিক। রিখটার স্কেলে সাত মাত্রার ওই ভূমিকম্প শুক্রবার অ্যাজিয়ান সাগরে আঘাত হানে। রয়টার্স ও এএফপির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তুরস্কের এজিয়ান উপকূল এবং গ্রিসের সামোন উপকূলের উত্তরাংশে শক্তিশালী এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে তুরস্কের ইজিয়ান সাগরের উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এসময় ইজমির শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে রাস্তায় নেমে আসে। ইজমির শহরের অন্তত ২০টি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে।এসব ধ্বংসস্তূপে মানুষ আটকা পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আশপাশের আরও কয়েকটি প্রদেশেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলেছে, ভূমিকম্পের শক্তি ছিল রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার। তবে তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) বলেছে, গ্রিনিচ সময় ১১টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট) আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৬।ইউএসজিএসর তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল গ্রিসের সামোস দ্বীপের কারলোভাসি শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে।

সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সব প্রতিষ্ঠান কাজ করেছ বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান। বলেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে আমরা আছি। সম্ভাব্য সবকিছু করার জন্য সমবেতভাবে সবাই অংশ নিয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, মিশর, লিবিয়া, যুক্তরাজ্য এবং উত্তর মেসিডোনিয়াতেও। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সুলেমান সোয়লু জানিয়েছেন, ইজমিরের বেয়ারাকলি ও বোরনোভা জেলায় ছয়টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। উসাক, ডেনিজলি, মনিসা, এডেন, মুগলার মতো সংলগ্ন প্রদেশগুলিত সামান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। স্থানীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সব ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, সেগুলিতে লোকজনকে ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে আটকদের বের করে আনার চেষ্টা চালাতে দেখা গেছে।

ভূমকম্পের কারণে সামোস বন্দরে মিনি সুনামি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তুরস্ক এবং গ্রিস উভয়ই ফল্টলাইনে অবস্থিত। ভূমিকম্প এ অঞ্চলে স্বাভাবিক ঘটনার মতো।

এদিকে শুক্রবারের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে গ্রিসের উত্তরাঞ্চল। সেখানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকা পড়াদের উদ্ধার করছেন সাধারণ মানুষ।গ্রিসের সামোস দ্বীপের বাসিন্দাদের উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির স্কাই টিভিকে বলেছেন গ্রিসের অ্যান্টি-সিসমিক প্ল্যানিং সংস্থার প্রধান এফতিমিওস লেক্কাস।হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। গ্রিসের সরকারি টেলিভিশনে বলা হচ্ছে, ভূমিকম্পের পর পূর্বাঞ্চলীয় এজিয়ান সাগরের সামোস দ্বীপে ক্ষুদে-সুনামির সৃষ্টি হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment