Home Uncategorized

by Channel 52us 52us
32 views

ডাকযোগে দেয়া ভোট গণনার সময়সীমা সংক্রান্ত রিপাবলিকানদের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট। নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট নিয়ে মামলা শুরু হয়ে গেছে বেশ আগে থেকে।নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবির।

সুপ্রিম কোর্টের একাধিক সিদ্ধান্তে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ভিন্ন রাজ্যের জন্য ভিন্ন রায় আসছে আদালতের মাধ্যমে। এসব রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ট্রাম্প মেইল-ইন বা ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ৩ নভেম্বরের নির্বাচনী দিনের পরও গ্রহণ করার বিরোধিতা করছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য-নর্থ ক্যারোলাইনা এবং পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কয়েকদিন পরও ব্যালট গ্রহণের পক্ষে রায় দিয়েছে।

ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল ট্রাম্প শিবির। সুপ্রিম কোর্ট বুধবার তা খারিজ করে নর্থ ক্যারোলাইনা রাজ্যের নির্বাচনী বোর্ডের পক্ষে রায় দিয়েছে।

নর্থ ক্যারোলাইনা নির্বাচন কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল সার্ভিসে মেইল ডেলিভারিতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকার যুক্তি দেখিয়ে ভোট অনুষ্ঠানের নয়দিন পর পৌছাঁনো ব্যালটও গণনা করার অনুমতি চেয়েছিল।নর্থ ক্যারোলাইনার ভোট নির্বাচনের নয় দিন পর পর্যন্ত গণনার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এ রায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিল।

পেনসিলভানিয়ায় রিপাবলিকানরা চেয়েছিলেন ৩ নভেম্বর ভোট গ্রহণের পর সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত ডাকযোগে পাওয়া ভোট হিসেবে ধরা ও গণনা করার সময়সীমা বেঁধে দেয়ার জন্য। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট দ্বিতীয়বারের মতো তাদের এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর অর্থ হচ্ছে, নির্বাচনের ছয় দিন পর পর্যন্ত হাতে আসা ডাকযোগের ভোট গণনা করা হবে।সুপ্রিম কোর্টে নতুন রক্ষণশীল বিচারপতি এমি কনি ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার দু’দিনের মাথায় এই রায় এল। যদিও ব্যারেট এই দুটি মামলার কোনওটিতেই অংশ নেননি বলে জানানো হয়েছে খবরে।

রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই বলে আসছেন ৩ নভেম্বর জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়ে যাওয়াই উত্তম। তিনি ডাকযোগে দেয়া ভোট নিয়ে অনেক প্রশ্ন আগেও তুলেছেন, এখনও তুলছেন।ট্রাম্পশিবিরের দাবি হচ্ছে- ডাকযোগে দেয়া ভোটে জালিয়াতি ও কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি এই ভোট গণনা সংক্রান্ত কারণে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পশিবির চাচ্ছিল দ্রুত ডাকযোগে আসা ভোটের গণনা শেষ করা।

উইসকনসিনে নির্বাচনের দিনেই ডাকযোগে দেওয়া ব্যালট বোর্ড অব ইলেকশনের কাছে পৌঁছাতে হবে। এ নিয়ে ফেডারেল ডিসট্রিক্ট কোর্ট প্রথম রায় দিয়েছিলেন, ছয় দিন পর্যন্ত আসা ব্যালট গণনা করা যাবে। পরে ফেডারেল আপিল কোর্ট এ রায় আবার পাল্টে দিয়েছেন।

মিনেসোটাতেও দুই পক্ষ আদালতে। ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির থেকে এ রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেটের ব্যালট গণনাবিষয়ক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টি এ রাজ্যে ভোট গণনার জন্য ৩ নভেম্বরে পোস্টমার্ক করার পর সাত দিন পর্যন্ত গণনা করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছে।ডেমোক্র্যাটরা ৩ নভেম্বরে পোস্টমার্ক করা ভোট গণনায় আনার পক্ষে।

আমেরিকার প্রতিটি রাজ্যের নির্বাচনী আইন ভিন্ন এবং এসব রাজ্য আইনসভায় গৃহীত আইন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব প্রতিটি রাজ্যের ইলেকশন বোর্ড স্বাধীনভাবে করে থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে ডাকযোগে ভোট গ্রহণ করার ডেটলাইনও আলাদা। ২৮টি রাজ্যে ডাকযোগে দেওয়া ভোট অবশ্যই নির্বাচনের দিনে পৌঁছতে হবে। ২২টি রাজ্যে এবং ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার জন্য ডাকযোগে ভোট নির্বাচনের দিনে পোস্টমার্ক করা হলেই গণনায় নেওয়ার আইন রয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে এবারে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র ব্যাপকভাবে ডাকযোগে ভোট দেওয়া হচ্ছে। ৩ নভেম্বরের পর যেসব রাজ্যে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান বেশি হবে, সেখানে সমস্যা নেই। যদি কোনো রাজ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কাছাকাছি থাকে, তখনই ডাকযোগের ভোট গণনা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হবে। ক্ষেত্র প্রস্তুত। দুই পক্ষের আইনজীবীরা দিন-রাত কাজ করছেন এসব নিয়ে। এবারের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদেরও অতিরিক্ত নজর রাখতে হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের দিকে।

ডাকযোগে দেয়া ভোট নিয়ে উদ্বেগ আছে ডেমোক্রেট শিবিরেও। এ বছর ভোটের ডাক সময়মতো পৌঁছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যরা। তারা বলেছেন, শেষ মুহূর্তে ও নির্ধারিত সময়ের পর পাঠানো ডাকযোগের ভোটের ব্যালট ঠিক সময়ে পৌঁছানো নিয়ে হযবরল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আছে নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও।

এ কারণে যারা ডাকযোগে ভোট দিয়ে ব্যালট ডাকে পাঠাননি, তাদেরকে সরাসরি ব্যালট পৌঁছে দেয়ার বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের জন্য বলছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া এখনও যারা ডাকযোগে ভোট দেয়ার পরিকল্পনা করছেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনার জন্য তাদেরকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

You may also like

Leave a Comment