সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়—এই পররাষ্ট্রনীতি নিয়েই আমরা চলব এবং আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না। : প্রধানমন্ত্রী

0
7

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সব রকম প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব রকম প্রস্তুতি আমরা নেব। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়—এই পররাষ্ট্রনীতি নিয়েই আমরা চলব এবং আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান ২০১৮ আলফা এবং ডিরেক্ট এন্ট্রি অফিসার (ডিইও) ২০২০ ব্রাভো ব্যাচের কোর্স সমাপনী রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের সব ধরনের উদ্যোগ যেন থাকে এবং প্রশিক্ষণ থাকে, সেইভাবে আমরা আমাদের প্রতিটি বাহিনীকে গড়ে তুলছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, এই স্বাধীন দেশ সব সময় বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলবে এবং আমরা আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব রকম প্রস্তুতি নেব।’

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করার জন্য এরই মধ্যে ২৭টি যুদ্ধজাহাজ সংযোজন করেছে। ২০১৭ সালে নৌবহরে দুটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন সংযোজন করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে এভিয়েশন সিস্টেম সংযোজনসহ সরকার এই বাহিনীকে একটি পূর্ণ ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি আরো উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য নেভাল একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সও নির্মাণ করা হয় এবং নৌবাহিনীর সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানেরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর খুলনা শিপইয়ার্ড নৌবাহিনীকে প্রদানের তথ্য উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম এবং নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড দুটিও নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছি। লক্ষ্য হলো, আমাদের নিজস্ব শিপইয়ার্ডেই আমরা যুদ্ধজাহাজও তৈরি করব; যার কাজ ইতিমধ্যে কিছু কিছু শুরুও হয়েছে।’

এ ছাড়া কক্সবাজার ও পেকুয়ায় সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে এবং রামনাবাদে নৌবাহিনীর ঘাঁটি সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসবের মাধ্যমে আমরা আমাদের সমুদ্রসম্পদকে যেন উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীকে অনুষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয় এবং তিনি মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজও প্রত্যক্ষ করেন।

এ সময় প্রশিক্ষণে কৃত্বিপূর্ণ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। মিডশিপম্যান মেহরাব হোসেন অমি সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হিসেবে সোর্ড অব অনার লাভ করেন। এবার ৩১ জন মিডশিপম্যান এবং ৩২ জন ডিরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ৬৩ জন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে মিডশিপম্যান ও ডিরেক্ট এন্ট্রি অফিসারদের শপথবাক্যও পাঠ করানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নবীন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের ২০৪১ সালের উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন সারথী আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আজকের কমিশনপ্রাপ্ত নবীন অফিসার সে সময় স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। তখন আপনারাই হবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কাজেই এ দেশের লক্ষ্য-২০৪১ অর্জনের ক্ষেত্রে আপনারাই মূল সৈনিক হিসেবে কাজ করবেন এবং দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, চাকরি বা ব্যক্তিজীবনের যেকোনো সংকট অতিক্রমে আমাদের এই নবীন অফিসাররা সব থেকে বেশি দক্ষ হবে। তোমরা যেন উন্নত জীবন যাপন করতে পার এবং দেশের সেবা করতে পার, সে জন্য আমার দোয়া থাকল তোমাদের জন্য।’

তিনি এ সময় জাতির পিতার নির্দেশনা সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার দেওয়া ভাষণের চুম্বক অংশ উদ্ধৃত করেন। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘যে জাতি নিজেকে সম্মান করতে পারে না, আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সে জাতি দুনিয়ায় কোনো দিন বড় হতে পারে না। সে জন্য আজকে আমরা আত্মমর্যাদাবিশিষ্ট জাতি হিসেবে, আত্মমর্যাদা নিয়ে বাস করতে চাই। আমরা অন্য কারো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। অন্য কেউ আমাদের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করুক তা-ও আমরা সহ্য করব না। আমরা এই নীতিতেই বিশ্বাসী।’

‘তোমরা জাতির পিতার আদর্শ মেনে চলবে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা এ সময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বানেরও পুনরুল্লেখ করেন।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৃষ্ট স্থবিরতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংক্রমণ যেন ব্যাপকভাবে আমাদের দেশে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য এবং দেশের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে তাঁর সরকার জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি আয়োজন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরই জাতির পিতার ১৯৭৪ সালে প্রবর্তিত প্রতিরক্ষা নীতিমালাকে সময়োপযোগী করে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন এবং সমুদ্রসীমায় যে অধিকার রয়েছে তা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মধ্যে এই সময়ে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারায় তিনি নৌবাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে আরো বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তোমাদের দৃঢ় মনোবল ও সাহস জোগাবে।

সূত্র : বাসস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here