শনিবার, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
শিরোনাম
  • **আজ পবিত্র শবেবরাত** দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২০ জনের প্রাণহানি ঘটলো**ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার থেকে এই যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মকর্তারা**ব্যাপক হারে মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যুমো** বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।ফাঁসি যেকোনো দিন**
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও লেখক ড. নুরুন নবী একুশে পদক ২০২০ এর জন্য মনোনীত

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক ২০২০ ঘোষণা করা হয়েছে।বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২০ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় এ পদক বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভাষা ও সাহিত্যে ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার কৃতি সন্তান ড. নুরুন নবী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী ১৯৪৯ সালে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খামারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হেমনগর শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন ও ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়নে স্নাতক এবং জাপানের কিয়ুশ বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাবস্থায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগদান করেন ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালের ৬ মে ‘ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ’ সাময়িকী যুদ্ধে অসাধারণ ভূমিকার জন্য তাকে টাঙ্গাইলে মুক্তিবাহিনীর ‘দ্য ব্রেইন’ বলে উল্লেখ করে।

এরপর তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুজীববিজ্ঞানে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কোলগেট কম্পানিতে গবেষক হিসেবে যোগদান করেন। কোলগেটের পণ্য ‘কোলগেট টোটালের’ অন্যতম আবিষ্কারক তিনি। তার নিজ নামে ৫০টির বেশি পেটেন্ট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি নিউজার্সির প্লেন্সবরো টাউনশিপ কমিটির নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান। চতুর্থ মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।

একাত্তুরের দুঃসাহসী এই মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের পটভুমিতে ইতিহাস সমৃদ্ধ দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে লিখেছেন ‘বুলেটস অফ ৭১’ ‘অ্য ফ্রিডম ফাইটার’স স্টোরি’ নামে দুটি অমূল্য গ্রন্থ। তাছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা ইতিহাসকে তুলে ধরে রচনা করেছেন ‘আমার একাত্তুর আমার যুদ্ধ’ ‘জন্মেছি এই বাংলায়’ ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ ‘আমেরিকায় জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি’ হুমায়ুন আহমেদ কাছের মানুষ’ ‘শামসুর রাহমান স্বাধীনতার কবি’ ‘কবীর চৌধুরী মৌলবাদের নির্ভীক প্রতিবাদী’ গ্রন্থগুলো। যা দেশ-বিদেশে খুবই পাঠকনন্দিত ও ব্যাপক আলোচিত। মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি তাকে ২০১৮ সালে সম্মানসূচক ‘ফেলোশিপ’ প্রদান করে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও লেখক ড. নুরুন নবী একুশে পদক ২০২০ এর জন্য মনোনীত

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক ২০২০ ঘোষণা করা হয়েছে।বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২০ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় এ পদক বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভাষা ও সাহিত্যে ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার কৃতি সন্তান ড. নুরুন নবী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী ১৯৪৯ সালে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খামারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হেমনগর শশীমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন ও ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়নে স্নাতক এবং জাপানের কিয়ুশ বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাবস্থায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুদ্ধে যোগদান করেন ও সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালের ৬ মে ‘ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ’ সাময়িকী যুদ্ধে অসাধারণ ভূমিকার জন্য তাকে টাঙ্গাইলে মুক্তিবাহিনীর ‘দ্য ব্রেইন’ বলে উল্লেখ করে।

এরপর তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুজীববিজ্ঞানে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কোলগেট কম্পানিতে গবেষক হিসেবে যোগদান করেন। কোলগেটের পণ্য ‘কোলগেট টোটালের’ অন্যতম আবিষ্কারক তিনি। তার নিজ নামে ৫০টির বেশি পেটেন্ট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি নিউজার্সির প্লেন্সবরো টাউনশিপ কমিটির নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান। চতুর্থ মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।

একাত্তুরের দুঃসাহসী এই মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের পটভুমিতে ইতিহাস সমৃদ্ধ দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে লিখেছেন ‘বুলেটস অফ ৭১’ ‘অ্য ফ্রিডম ফাইটার’স স্টোরি’ নামে দুটি অমূল্য গ্রন্থ। তাছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা ইতিহাসকে তুলে ধরে রচনা করেছেন ‘আমার একাত্তুর আমার যুদ্ধ’ ‘জন্মেছি এই বাংলায়’ ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ ‘আমেরিকায় জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি’ হুমায়ুন আহমেদ কাছের মানুষ’ ‘শামসুর রাহমান স্বাধীনতার কবি’ ‘কবীর চৌধুরী মৌলবাদের নির্ভীক প্রতিবাদী’ গ্রন্থগুলো। যা দেশ-বিদেশে খুবই পাঠকনন্দিত ও ব্যাপক আলোচিত। মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি তাকে ২০১৮ সালে সম্মানসূচক ‘ফেলোশিপ’ প্রদান করে।

Please follow and like us:
error0

Comments

comments

X
error