বৃহস্পতিবার, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
শিরোনাম
  • **কাসেম সোলেমানির ঘনিষ্ঠ স্থানীয় কমান্ডার আব্দেলহোসেইন মোজাদ্দামিকে বুধবার তার বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করেছে দুই মুখোশধারী**রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)** রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সংবিধান আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে সমর্থন করেছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমা** রুট 19 এর নাম বদলে গভর্নর ফিল মারফি মঙ্গলবার বিল প্যাসক্রেলের নামে সড়ক নামকরণের একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন** প্যাটারসনে মেইন স্ট্রিটে পীষ্ঠ হয়ে ৬১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু** ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ব্যবস্থা চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক**
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৬ ২:০০ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করছি : সৈয়দ জুবায়ের আলী

নতুন সকাল রিপোর্ট : সৈয়দ জুবায়ের আলী। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারি তিনি। জড়িত আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে। দীর্ঘ দুই যুগের প্রবাস জীবনে তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজেও ওতপ্রতভাবে জড়িত। বর্তমান নিউজার্সি স্টেট বিএনপির সভাপতি।সম্প্রতি সাপ্তাহিক নতুন সকালের মুখোমুখি হন তিনি। কথা বলেন সমসাময়িক রাজনীতি এবং দলীয় কর্মকান্ড নিয়ে।

কথায় কথায় তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে মাত্র ৭ জনকে নিয়ে নিউজার্সিতে বিএনপির কর্মকান্ড শুরু করেন তিনি। এখন এই সংগঠনটির কর্মী সংখ্যা এক হাজারের বেশি। এ জন্য তাকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ তার দলে বিভাজনের অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার ধৈর্যা এবং একাগ্রতার কাছে কোনো প্রতিকূলতাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

আলাপের শুরুতেই তিনি বলছিলেন ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ইতিহাস। ১৯৮৬ সালের কথা। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে।কূলাউড়া কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্য ন্ত কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এরপর কূলাউড়া থানা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।ওই সময় স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণ করেন এই তুখোড় ছাত্রনেতা।১৯৯১ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান সৈয়দ জুবায়ের আলী।কিন্তু রক্তে যার রাজনীতি তিনি কি বসে থাকতে পারেন! বিদেশে বসেও দেশ এবং দল নিয়ে তার ভাবনা প্রতিনিয়ত পিছু তাড়া করত। এজন্য জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করার কাজে নেমে পড়েন তিনি।নিউজার্সিতে বসবাসকারি সমমনোভাবাপন্ন কয়েকজনকে নিয়ে দল গোছানোর কাজ শুরু করেন জুবায়ের আলী। কয়েকদিনের মধ্যেই দলের কর্মী-সমর্থকের সংখ্যা প্রায় একশ ছুঁই ছুঁই। তখন তিনি কমিটি গঠনের কথা ভাবেন। প্রথম কমিটি করেন ৭১ সদস্য বিশিষ্ট। সেই থেকে পথচলা।

সম্প্রতি দলের কেন্দ্রিয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে নিউজার্সি বিএনপির যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে উত্তর-দক্ষিন ভাগ করতে হলো কেন-এমন এক প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের আলী বলেন, দল প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। দলে সদস্য সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে কমিটি করতে গেলে সবাই কম-বেশি পদ প্রত্যাশা করেন। যে কারণে উত্তর ও দক্ষিন ভাগ করে পদ প্রত্যাশিদের আশা পূরণ ও সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

দেশের রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন সেখানে গনতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। বিএনপির নেতা-কর্মীদের একের পর এক গ্রেফতার করে পুরো দেশটাকেই একটা কারাগারে পরিনত করেছেন তিনি।গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে কিছুই নেই দেশে।আর আইনের শাসনতো সূদূর পরাহত।যেখানে সরকারের নির্দেশে আদালত চলে সেখানে আইনের শাসন থাকবে কিভাবে-পাল্টা প্রশ্ন রেখে তিনি আরো বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দু’জনের বিরুদ্ধেই অনেক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হলো। অথচ খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো জিইয়ে রেখে এখন তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারেক রহমানসহ শত শত নেতা-কর্মী এখন দেশে ফিরতে পারছেন না। তাদের মাথার উপর মামলা ঝুলছে। এমনকি নির্বাচিত প্রতিনিধি, যারা ৪টি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদেরকেও হয়রানিমূল মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এই অবস্থায় বিদেশে বসে কিভাবে দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবেন-প্রশ্ন করা হলে জুবায়ের বলেন, আমেরিকায় বিশেষ করে নিউজার্সিতে যেসব জাতীয়তাবাদী নেতা-কর্মী অবস্থান করছেন তাদেরকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি কিছূ সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত আছি।নিউজার্সির প্যাটারসনে শাহজালাল লতিফিয়া ইসলামিক সেন্টার নামে একটি মাদ্রাসা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকা প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি তিনি। যেখানে বাঙালী কমিউনিটির ছেলে-মেয়েদের আরবি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা চেষ্টা চালানো হচ্ছে।এছাড়া, মৌলভী বাজার ডিস্ট্রিক এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনক-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এই রাজনীতিবিদ।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করছি : সৈয়দ জুবায়ের আলী

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৬ ২:০০ পূর্বাহ্ণ

নতুন সকাল রিপোর্ট : সৈয়দ জুবায়ের আলী। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারি তিনি। জড়িত আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে। দীর্ঘ দুই যুগের প্রবাস জীবনে তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজেও ওতপ্রতভাবে জড়িত। বর্তমান নিউজার্সি স্টেট বিএনপির সভাপতি।সম্প্রতি সাপ্তাহিক নতুন সকালের মুখোমুখি হন তিনি। কথা বলেন সমসাময়িক রাজনীতি এবং দলীয় কর্মকান্ড নিয়ে।

কথায় কথায় তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে মাত্র ৭ জনকে নিয়ে নিউজার্সিতে বিএনপির কর্মকান্ড শুরু করেন তিনি। এখন এই সংগঠনটির কর্মী সংখ্যা এক হাজারের বেশি। এ জন্য তাকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ তার দলে বিভাজনের অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার ধৈর্যা এবং একাগ্রতার কাছে কোনো প্রতিকূলতাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

আলাপের শুরুতেই তিনি বলছিলেন ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ইতিহাস। ১৯৮৬ সালের কথা। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে।কূলাউড়া কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্য ন্ত কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এরপর কূলাউড়া থানা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।ওই সময় স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণ করেন এই তুখোড় ছাত্রনেতা।১৯৯১ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান সৈয়দ জুবায়ের আলী।কিন্তু রক্তে যার রাজনীতি তিনি কি বসে থাকতে পারেন! বিদেশে বসেও দেশ এবং দল নিয়ে তার ভাবনা প্রতিনিয়ত পিছু তাড়া করত। এজন্য জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করার কাজে নেমে পড়েন তিনি।নিউজার্সিতে বসবাসকারি সমমনোভাবাপন্ন কয়েকজনকে নিয়ে দল গোছানোর কাজ শুরু করেন জুবায়ের আলী। কয়েকদিনের মধ্যেই দলের কর্মী-সমর্থকের সংখ্যা প্রায় একশ ছুঁই ছুঁই। তখন তিনি কমিটি গঠনের কথা ভাবেন। প্রথম কমিটি করেন ৭১ সদস্য বিশিষ্ট। সেই থেকে পথচলা।

সম্প্রতি দলের কেন্দ্রিয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে নিউজার্সি বিএনপির যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে উত্তর-দক্ষিন ভাগ করতে হলো কেন-এমন এক প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের আলী বলেন, দল প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। দলে সদস্য সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে কমিটি করতে গেলে সবাই কম-বেশি পদ প্রত্যাশা করেন। যে কারণে উত্তর ও দক্ষিন ভাগ করে পদ প্রত্যাশিদের আশা পূরণ ও সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

দেশের রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন সেখানে গনতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। বিএনপির নেতা-কর্মীদের একের পর এক গ্রেফতার করে পুরো দেশটাকেই একটা কারাগারে পরিনত করেছেন তিনি।গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে কিছুই নেই দেশে।আর আইনের শাসনতো সূদূর পরাহত।যেখানে সরকারের নির্দেশে আদালত চলে সেখানে আইনের শাসন থাকবে কিভাবে-পাল্টা প্রশ্ন রেখে তিনি আরো বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দু’জনের বিরুদ্ধেই অনেক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হলো। অথচ খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো জিইয়ে রেখে এখন তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারেক রহমানসহ শত শত নেতা-কর্মী এখন দেশে ফিরতে পারছেন না। তাদের মাথার উপর মামলা ঝুলছে। এমনকি নির্বাচিত প্রতিনিধি, যারা ৪টি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদেরকেও হয়রানিমূল মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এই অবস্থায় বিদেশে বসে কিভাবে দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবেন-প্রশ্ন করা হলে জুবায়ের বলেন, আমেরিকায় বিশেষ করে নিউজার্সিতে যেসব জাতীয়তাবাদী নেতা-কর্মী অবস্থান করছেন তাদেরকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি কিছূ সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত আছি।নিউজার্সির প্যাটারসনে শাহজালাল লতিফিয়া ইসলামিক সেন্টার নামে একটি মাদ্রাসা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকা প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি তিনি। যেখানে বাঙালী কমিউনিটির ছেলে-মেয়েদের আরবি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা চেষ্টা চালানো হচ্ছে।এছাড়া, মৌলভী বাজার ডিস্ট্রিক এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনক-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এই রাজনীতিবিদ।

Please follow and like us:
error0

Comments

comments

X
error