শুক্রবার, ২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
শিরোনাম
  • **আজ পবিত্র শবেবরাত** দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২০ জনের প্রাণহানি ঘটলো**ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার থেকে এই যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মকর্তারা**ব্যাপক হারে মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যুমো** বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।ফাঁসি যেকোনো দিন**
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০২০: কে হবেন নগরপিতা?

আসছে ৩০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোট। দুই মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ভোট হচ্ছে। মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নৌকা-রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি ধানের শীষের পাশাপাশি দেশের সব দলই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটে লড়বে। এদের মধ্যে কোনো কোনো দল প্রতীক নিয়ে আবার কেউ কেউ জোটগতভাবে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেবে। কাউন্সিলর পদে প্রতীক না থাকলেও সবাই দল সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করছে। কার্যত, লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে। আটঘাট বেঁধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবে। তবে এর আগেই শুরু হয়েছে ঘরোয়া বৈঠক। নিজ নিজ দলের নেতা-কর্মীরা মতবিনিময়ও শুরু করেছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজও শুরু হয়েছে। প্রধান দুই দলের শীর্ষ নেতারাও এ ভোট পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘সিটি ভোট নির্বাচন কমিশনের একটি রুটিন ওয়ার্ক। তারা তফসিল ঘোষণা করেছে। বলেছে, সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ভোট করবেন। তাদের কথাই আমরা বিশ্বাস করতে চাই। সব রাজনৈতিক দল ভোটে যাচ্ছে-এটা ভালো খবর। কিন্তু ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে।’

আওয়ামী লীগ : ঢাকার দুই সিটিতে নৌকার দুই মেয়র এবং দল সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের বিজয়ী করার মিশন নিয়েই শুরু হচ্ছে নতুন বছর। তাই, আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরামের নেতারা। ঢাকা সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। বিগত এক বছর ভোট, সরকার গঠন ও সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নতুন বছরের মিশনও ভোট। ইতিমধ্যে দুই মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে দলটি। ঢাকা নিজেদের দখলে রাখতে তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। জয়ের ধারা ধরে রাখতেই দক্ষিণে মেয়র পদপ্রার্থীর ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে। এখন চলছে ঘরোয়া প্রস্তুতি। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও হোমওয়ার্ক করে রাখছে। দু-তিন দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। দুই সিটিতে দুজন সিনিয়র নেতাকে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হবে। মহানগর আওয়ামী লীগও দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। থানা-ওয়ার্ডে গঠন করা হবে কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য পৃথক কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করার জন্য ইতিমধ্যে থানা ও ওয়ার্ডে নির্দেশ দিয়েছি। তারা অনেকেই কাজ শুরু করেছেন। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যেই কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে। আমরা নির্বাচনে মেয়রসহ কাউন্সিলর পদে জয়ী হব ইনশাআল্লাহ।

নতুন বছরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লড়াইয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এ জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রচার-প্রচারণার কৌশল নিতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম কৌশল হবে বিগত সময়ের উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা। আগামীতে কেমন নগর উপহার দিতে চান সে বিষয়েও থাকবে প্রচারণায়। ঘরে ঘরে যাবেন নেতারা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দু-তিন দিনের মধ্যেই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করব। বিষয়টি নিয়ে এখন আলাপ-আলোচনা চলছে।

দক্ষিণ সিটির মেয়র পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম আজ দুপুরে নির্বাচন কমিশনে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। দুই মেয়র প্রার্থী ছাড়াও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কেউ কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আবার আজ অনেকেই দেবেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর দুই মেয়র প্রার্থী নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তাদের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন।

বিএনপি : দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিকূল পরিবেশেও সিটি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবেও নির্বাচনে যাওয়ার কথা বললেও কার্যত ভোটে অংশ নেওয়া ছাড়া সামনে কোনো পথ খোলা ছিল না। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। একইভাবে আগামীতেও স্থানীয় সরকারসহ সব নির্বাচনেই ভোটযুদ্ধে মাঠে থাকবে বিএনপি। নেতারা বলছেন, বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে মাঠের নেতা-কর্মীদের রাজপথমুখী করাই মূল লক্ষ্য। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দুইভাবে চাঙ্গা হন। একটি হলো ভোটের মাধ্যমে। অন্যটি দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে। দুটি কাজই বিএনপি একসঙ্গে করে যাচ্ছে।

জানা যায়, বিএনপি হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে দুটি শক্তিশালী নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করবে। প্রতিটি কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি করে প্রচারণা চালানো হবে। বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক নেতাদের নিয়েও আলাদা কমিটি গঠন করে মাঠে নামবে দলটি। লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সব সদস্যই নির্বাচন দেখভাল করবেন। এ দিকে আজ দুপুরে ধানের শীষের দুই প্রার্থী বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমার আশঙ্কা নির্বাচন ভ ুল করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিজেরাই তৎপরতা চালাবে। ফলাফল যাই হোক আমি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকব। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ নিয়েও দেশ-বিদেশে নানা আপত্তি আছে। আমিও চাই স্বচ্ছ ব্যালটে ভোট হোক। সাংবাদিকসহ সব পর্যবেক্ষককে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া জরুরি।

ঢাকা সিটি দক্ষিণে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী নিয়ে কোনো ভয় পাচ্ছি না। আমাদের ভয় নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে। ইভিএম নিয়ে জনমনে শঙ্কা কাজ করছে। ভোটাররা সঠিকভাবে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েই আমাদের ভয়। তারপরও আমি ভোটের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই। আমি একটি ইশতেহার দেব। সেখানে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকবে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০২০: কে হবেন নগরপিতা?

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

আসছে ৩০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোট। দুই মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ভোট হচ্ছে। মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নৌকা-রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি ধানের শীষের পাশাপাশি দেশের সব দলই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটে লড়বে। এদের মধ্যে কোনো কোনো দল প্রতীক নিয়ে আবার কেউ কেউ জোটগতভাবে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেবে। কাউন্সিলর পদে প্রতীক না থাকলেও সবাই দল সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করছে। কার্যত, লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে। আটঘাট বেঁধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবে। তবে এর আগেই শুরু হয়েছে ঘরোয়া বৈঠক। নিজ নিজ দলের নেতা-কর্মীরা মতবিনিময়ও শুরু করেছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজও শুরু হয়েছে। প্রধান দুই দলের শীর্ষ নেতারাও এ ভোট পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘সিটি ভোট নির্বাচন কমিশনের একটি রুটিন ওয়ার্ক। তারা তফসিল ঘোষণা করেছে। বলেছে, সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ভোট করবেন। তাদের কথাই আমরা বিশ্বাস করতে চাই। সব রাজনৈতিক দল ভোটে যাচ্ছে-এটা ভালো খবর। কিন্তু ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে।’

আওয়ামী লীগ : ঢাকার দুই সিটিতে নৌকার দুই মেয়র এবং দল সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের বিজয়ী করার মিশন নিয়েই শুরু হচ্ছে নতুন বছর। তাই, আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরামের নেতারা। ঢাকা সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। বিগত এক বছর ভোট, সরকার গঠন ও সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নতুন বছরের মিশনও ভোট। ইতিমধ্যে দুই মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে দলটি। ঢাকা নিজেদের দখলে রাখতে তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। জয়ের ধারা ধরে রাখতেই দক্ষিণে মেয়র পদপ্রার্থীর ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে। এখন চলছে ঘরোয়া প্রস্তুতি। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও হোমওয়ার্ক করে রাখছে। দু-তিন দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। দুই সিটিতে দুজন সিনিয়র নেতাকে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হবে। মহানগর আওয়ামী লীগও দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। থানা-ওয়ার্ডে গঠন করা হবে কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য পৃথক কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করার জন্য ইতিমধ্যে থানা ও ওয়ার্ডে নির্দেশ দিয়েছি। তারা অনেকেই কাজ শুরু করেছেন। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যেই কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে। আমরা নির্বাচনে মেয়রসহ কাউন্সিলর পদে জয়ী হব ইনশাআল্লাহ।

নতুন বছরে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লড়াইয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এ জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রচার-প্রচারণার কৌশল নিতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম কৌশল হবে বিগত সময়ের উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা। আগামীতে কেমন নগর উপহার দিতে চান সে বিষয়েও থাকবে প্রচারণায়। ঘরে ঘরে যাবেন নেতারা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দু-তিন দিনের মধ্যেই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করব। বিষয়টি নিয়ে এখন আলাপ-আলোচনা চলছে।

দক্ষিণ সিটির মেয়র পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম আজ দুপুরে নির্বাচন কমিশনে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। দুই মেয়র প্রার্থী ছাড়াও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কেউ কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আবার আজ অনেকেই দেবেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর দুই মেয়র প্রার্থী নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তাদের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন।

বিএনপি : দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিকূল পরিবেশেও সিটি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবেও নির্বাচনে যাওয়ার কথা বললেও কার্যত ভোটে অংশ নেওয়া ছাড়া সামনে কোনো পথ খোলা ছিল না। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। একইভাবে আগামীতেও স্থানীয় সরকারসহ সব নির্বাচনেই ভোটযুদ্ধে মাঠে থাকবে বিএনপি। নেতারা বলছেন, বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে মাঠের নেতা-কর্মীদের রাজপথমুখী করাই মূল লক্ষ্য। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দুইভাবে চাঙ্গা হন। একটি হলো ভোটের মাধ্যমে। অন্যটি দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে। দুটি কাজই বিএনপি একসঙ্গে করে যাচ্ছে।

জানা যায়, বিএনপি হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে দুটি শক্তিশালী নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করবে। প্রতিটি কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি করে প্রচারণা চালানো হবে। বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক নেতাদের নিয়েও আলাদা কমিটি গঠন করে মাঠে নামবে দলটি। লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সব সদস্যই নির্বাচন দেখভাল করবেন। এ দিকে আজ দুপুরে ধানের শীষের দুই প্রার্থী বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমার আশঙ্কা নির্বাচন ভ ুল করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিজেরাই তৎপরতা চালাবে। ফলাফল যাই হোক আমি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকব। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ নিয়েও দেশ-বিদেশে নানা আপত্তি আছে। আমিও চাই স্বচ্ছ ব্যালটে ভোট হোক। সাংবাদিকসহ সব পর্যবেক্ষককে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া জরুরি।

ঢাকা সিটি দক্ষিণে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী নিয়ে কোনো ভয় পাচ্ছি না। আমাদের ভয় নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে। ইভিএম নিয়ে জনমনে শঙ্কা কাজ করছে। ভোটাররা সঠিকভাবে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েই আমাদের ভয়। তারপরও আমি ভোটের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই। আমি একটি ইশতেহার দেব। সেখানে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকবে।

Please follow and like us:
error0

Comments

comments

X
error