শনিবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
শিরোনাম
  • **কাসেম সোলেমানির ঘনিষ্ঠ স্থানীয় কমান্ডার আব্দেলহোসেইন মোজাদ্দামিকে বুধবার তার বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করেছে দুই মুখোশধারী**রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)** রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সংবিধান আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে সমর্থন করেছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমা** রুট 19 এর নাম বদলে গভর্নর ফিল মারফি মঙ্গলবার বিল প্যাসক্রেলের নামে সড়ক নামকরণের একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন** প্যাটারসনে মেইন স্ট্রিটে পীষ্ঠ হয়ে ৬১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু** ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ব্যবস্থা চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক**
শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

দাম্পত্য ঝগড়া থামানোর উপায়

‘ঝগাড়াঝাঁটি তক্ক বিতক্ক বাদ বিতম্বাদ চলবে... তবু তুমিও যাবে না দিল্লি, আমিও না বম্বে’ অঞ্জন দত্তের গানের মতো দাম্পত্যজীবনে ঝগড়া চলতেই পারে। তবে এই বিবাদ থামাতে জানা থাকা চাই কৌশল।
সামান্য ঝগড়া থেকে সম্পর্কে অবনতি ঠেকাতে ধৈর্য এবং শান্ত মেজাজ ধরে রাখাটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা করতে পারলে এক কথাতেই ঝগড়া মীমাংসা করে ফেলতে পারবেন।

সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের বিবাহ ও পরিবারবিষয়ক পরামর্শক জিল হুইটনি বলেন, “ঝগড়ার সময় সবচাইতে ইতিবাচক কথাটি হতে পারে ‘আমি তোমার যুক্তিটা বুঝতে পেরেছি’ কিংবা ‘এই বিষয়ে তুমি ঠিক বলেছ’ কিংবা এই রকম ভাব প্রকাশ করে এমন যে কোনো বাক্য। মূল বিষয় হল সঙ্গীকে বোঝানো যে, তার কথা আপনি শুনেছেন এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।”

ঝগড়ার সময় এমন কথন সঙ্গীর চোখে আপনাকে অপরাধী হওয়া থেকে বাঁচায়। সঙ্গীর মনে হয়, যাই হোক না কেনো, আপনি সঙ্গীর পক্ষেই আছেন। এ থেকে বোঝা যায়, ঝগড়া হলেও এই আলাপচারিতায় আপনার মনোযোগ আছে।

কলহ ঝেড়ে ফেলে সঙ্গীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া বেশ দুষ্কর হয়ে পড়ে অনেকসময়। তবে একে অপরের প্রতি বিরোধিতা কমিয়ে ফেলতে পারলে ঝগড়া মিটমাট করে নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। আর সঙ্গীকে দেওয়া কষ্টের পরিমাণও থাকবে অল্প মাত্রায়।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনি কী বলছেন তার চাইতে কীভাবে বলছেন সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এই সহানুভূতিশীল কথাগুলোই যদি রাগি সুরে বলেন, তবে কোনো লাভ হবে না। তাই নিজেকে শান্ত করে তারপরই এই হাতিয়ার ব্যবহার করতে হবে। আর একান্তই যদি নিজেকে শান্ত করতে না পারেন তবে সঙ্গীকে জানান যে আপনি অনেক ক্লান্ত।

ফলে পরে পস্তাতে হয় এমন বেফাঁস কিছু বলে ফেলার আশঙ্কা কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনওয়াইসি ফ্যামিলি থেরাপি’র কর্ণধার ভিজেতা সিং বলেন, “অবশ্যই এই উপদেশগুলো দেওয়া সহজ, তবে বাস্তবে কাজে লাগানো কঠিন। সঙ্গীকে আপনার অংশগ্রহণের অপারগতার কথা জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কটা বেঁচে থাকবে। সমস্যাগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করার উপায় ভেবে বের করার সময় মিলবে। সুস্থ মানসিক অবস্থায় পৌঁছে তারপর মতোবিরোধ মীমাংসা করার চেষ্টা করা দুজনের জন্যই যৌক্তিক এবং ন্যায্য অধিকার।”

সহানুভূতিশীল কথা ও অঙ্গভঙ্গিতেও যদি কাজ না হয় তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, সঙ্গীর যে বিষয়গুলো আপনি সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন সেগুলো মনে করা এবং তা মাথায় রাখা। ঝগড়ার সময় এগুলো মাথায় না থাকাই স্বাভাবিক, তবে আপনাদের সম্পর্কের স্বার্থেই এই দুঃসাধ্য সাধন করতে হবে।

সঙ্গীর প্রিয় বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারলে ঝগড়ার সময় আপনার কথাগুলো হবে প্রাসঙ্গিক, অনুপ্রেরণা মিলবে সমস্যা সমাধান করার। আর ঝগড়ার উত্তেজিত পরিস্থিতে সঙ্গীকে আপনি কেনো ভালবাসেন তা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে পারা সমস্যার একটা সুখকর সমাধান আনতে সাহায্য করবে।

পরিবারবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য পপুলার ম্যান’য়ের পরামর্শক জনাথান বেনেট বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া দ্রুত তিক্ততা, অবহেলা, নেতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সঙ্গীর প্রতি সহমর্মীতা প্রকাশের পন্থা বের করতে হবে, এমনকি ঝগড়ার মধ্যেও। এর মাধ্যমে সঙ্গীর ভালো গুনগুলো আপনার নিজেকে মনে করানো যেমন হবে, তেমনি সঙ্গীকেও বোঝানো হবে যে আপনি আজও ওই বিষয়গুলোকে মূল্যায়ন করেন।”

অঞ্জন দত্তের গানের কথায় ‘দিনটা আজকে ঠাণ্ডা নাকি বেড়েছে গরম মাংসটা ঠাণ্ডা নাকি ভিষণই নরম’ এই ধরনের দৈনন্দিন তর্ক থেকে শুরু করে জটিল বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ থামাতে নিজেকে রাখুন সংযত।

আর মনে মনে আওড়ান- ‘এত দেমাগ কিসের? সেই তো আমায় ভালোবাসবে।’

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

দাম্পত্য ঝগড়া থামানোর উপায়

শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ

‘ঝগাড়াঝাঁটি তক্ক বিতক্ক বাদ বিতম্বাদ চলবে… তবু তুমিও যাবে না দিল্লি, আমিও না বম্বে’ অঞ্জন দত্তের গানের মতো দাম্পত্যজীবনে ঝগড়া চলতেই পারে। তবে এই বিবাদ থামাতে জানা থাকা চাই কৌশল।
সামান্য ঝগড়া থেকে সম্পর্কে অবনতি ঠেকাতে ধৈর্য এবং শান্ত মেজাজ ধরে রাখাটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। আর তা করতে পারলে এক কথাতেই ঝগড়া মীমাংসা করে ফেলতে পারবেন।

সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের বিবাহ ও পরিবারবিষয়ক পরামর্শক জিল হুইটনি বলেন, “ঝগড়ার সময় সবচাইতে ইতিবাচক কথাটি হতে পারে ‘আমি তোমার যুক্তিটা বুঝতে পেরেছি’ কিংবা ‘এই বিষয়ে তুমি ঠিক বলেছ’ কিংবা এই রকম ভাব প্রকাশ করে এমন যে কোনো বাক্য। মূল বিষয় হল সঙ্গীকে বোঝানো যে, তার কথা আপনি শুনেছেন এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।”

ঝগড়ার সময় এমন কথন সঙ্গীর চোখে আপনাকে অপরাধী হওয়া থেকে বাঁচায়। সঙ্গীর মনে হয়, যাই হোক না কেনো, আপনি সঙ্গীর পক্ষেই আছেন। এ থেকে বোঝা যায়, ঝগড়া হলেও এই আলাপচারিতায় আপনার মনোযোগ আছে।

কলহ ঝেড়ে ফেলে সঙ্গীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া বেশ দুষ্কর হয়ে পড়ে অনেকসময়। তবে একে অপরের প্রতি বিরোধিতা কমিয়ে ফেলতে পারলে ঝগড়া মিটমাট করে নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। আর সঙ্গীকে দেওয়া কষ্টের পরিমাণও থাকবে অল্প মাত্রায়।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনি কী বলছেন তার চাইতে কীভাবে বলছেন সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এই সহানুভূতিশীল কথাগুলোই যদি রাগি সুরে বলেন, তবে কোনো লাভ হবে না। তাই নিজেকে শান্ত করে তারপরই এই হাতিয়ার ব্যবহার করতে হবে। আর একান্তই যদি নিজেকে শান্ত করতে না পারেন তবে সঙ্গীকে জানান যে আপনি অনেক ক্লান্ত।

ফলে পরে পস্তাতে হয় এমন বেফাঁস কিছু বলে ফেলার আশঙ্কা কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনওয়াইসি ফ্যামিলি থেরাপি’র কর্ণধার ভিজেতা সিং বলেন, “অবশ্যই এই উপদেশগুলো দেওয়া সহজ, তবে বাস্তবে কাজে লাগানো কঠিন। সঙ্গীকে আপনার অংশগ্রহণের অপারগতার কথা জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্কটা বেঁচে থাকবে। সমস্যাগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করার উপায় ভেবে বের করার সময় মিলবে। সুস্থ মানসিক অবস্থায় পৌঁছে তারপর মতোবিরোধ মীমাংসা করার চেষ্টা করা দুজনের জন্যই যৌক্তিক এবং ন্যায্য অধিকার।”

সহানুভূতিশীল কথা ও অঙ্গভঙ্গিতেও যদি কাজ না হয় তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, সঙ্গীর যে বিষয়গুলো আপনি সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন সেগুলো মনে করা এবং তা মাথায় রাখা। ঝগড়ার সময় এগুলো মাথায় না থাকাই স্বাভাবিক, তবে আপনাদের সম্পর্কের স্বার্থেই এই দুঃসাধ্য সাধন করতে হবে।

সঙ্গীর প্রিয় বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারলে ঝগড়ার সময় আপনার কথাগুলো হবে প্রাসঙ্গিক, অনুপ্রেরণা মিলবে সমস্যা সমাধান করার। আর ঝগড়ার উত্তেজিত পরিস্থিতে সঙ্গীকে আপনি কেনো ভালবাসেন তা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে পারা সমস্যার একটা সুখকর সমাধান আনতে সাহায্য করবে।

পরিবারবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য পপুলার ম্যান’য়ের পরামর্শক জনাথান বেনেট বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া দ্রুত তিক্ততা, অবহেলা, নেতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে সঙ্গীর প্রতি সহমর্মীতা প্রকাশের পন্থা বের করতে হবে, এমনকি ঝগড়ার মধ্যেও। এর মাধ্যমে সঙ্গীর ভালো গুনগুলো আপনার নিজেকে মনে করানো যেমন হবে, তেমনি সঙ্গীকেও বোঝানো হবে যে আপনি আজও ওই বিষয়গুলোকে মূল্যায়ন করেন।”

অঞ্জন দত্তের গানের কথায় ‘দিনটা আজকে ঠাণ্ডা নাকি বেড়েছে গরম মাংসটা ঠাণ্ডা নাকি ভিষণই নরম’ এই ধরনের দৈনন্দিন তর্ক থেকে শুরু করে জটিল বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ থামাতে নিজেকে রাখুন সংযত।

আর মনে মনে আওড়ান- ‘এত দেমাগ কিসের? সেই তো আমায় ভালোবাসবে।’

Please follow and like us:
error0

Comments

comments

X
error