বৃহস্পতিবার, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
শিরোনাম
  • **কাসেম সোলেমানির ঘনিষ্ঠ স্থানীয় কমান্ডার আব্দেলহোসেইন মোজাদ্দামিকে বুধবার তার বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করেছে দুই মুখোশধারী**রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)** রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সংবিধান আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে সমর্থন করেছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমা** রুট 19 এর নাম বদলে গভর্নর ফিল মারফি মঙ্গলবার বিল প্যাসক্রেলের নামে সড়ক নামকরণের একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন** প্যাটারসনে মেইন স্ট্রিটে পীষ্ঠ হয়ে ৬১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু** ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ব্যবস্থা চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক**
সোমবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯ ১:৩০ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯ ১:০২ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিতর্কিত ব্লাসফেমি আইনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের এক শিক্ষাবিদ ও প্রফেসরকে। দেশটির মুলতান জেলা ও সেশন কোর্টের বিচারক শনিবার এ রায় দেন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। পাকিস্তানের এমন বিচারব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষকের নাম জুনায়েদ হাফিজ (৩৩)। মুলতানে বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে ভিজিটিং লেকচারার ছিলেন তিনি। তাঁকে ২০১৩ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য পোস্ট করেছেন।মুলতানের ওই আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। দীর্ঘ বিচারকার্য শেষে শনিবার তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

জুনায়েদ হাফিজের প্রথম আইনজীবী ছিলেন রশিদ রেহমান। হাফিজের পক্ষে মামলা লড়তে রাজি হওয়ার পর ২০১৪ সালে রশিদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর কারাগারে একাধিকবার অন্য বন্দীদের হামলার শিকার হন হাফিজ। পরে তাঁকে একটি সেলে একাকী অবস্থায় বন্দী রাখা হয়। হাফিজের বর্তমান আইনজীবী নিজেও ইসলামপন্থীদের হুমকির মুখে রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলাকালীন যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় তা ভয়াবহ। তিনি লাহোর হাইকোর্টে এ মামলা নিয়ে আপিল করবেন বলে জানান। এমন পরিবেশে কোনো বিচারক ন্যায় বিচার করার ঝুঁকি নেবে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।হাফিজের আইনজীবী আরো বলেন, হাফিজ বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। যখন আমি তার সঙ্গে কথা বলতাম তিনি সবসময় হাসিমুখে কথা বলতেন। কিন্তু এতদিনের নির্জন কারাবাসের কারণে তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মুলতানের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন হাফিজ। সেই কারাগারেই রায় ঘোষণা করেন আদালত।

দ্য ডন অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলায় হাফিজের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। তিনটি অভিযোগেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন আদালত।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা সহকর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই রায়ে ‘চরম হতাশা’ ও ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে। এই রায়কে ‘ন্যায়বিচারের চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংগঠনটি।অ্যামনেস্টির পাকিস্তান বিষয়ক গবেষক রাবিয়া মেহমুদ বলেন, জুনায়েদ হাফিজের মৃত্যুদণ্ড আইনের অপব্যাবহারের স্পষ্ট উদাহরণ। মুলতান আদালতের এই রায় চূড়ান্ত পর্যায়ের হতাশাজনক ও বিষ্ময়কর। জুনায়েদের এই দীর্ঘ মামলা ও তার রায় পুরোটাই একটি প্রহসন ও পক্ষপাতদুষ্ট।

শনিবার এই রায়ের নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনও। এতে বলা হয়, এই রায়ে ভীতির প্রদর্শন হয়েছে। পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন বিশ্বাস করে, ব্লাসফেমি আইনের যথেচ্ছ অপব্যাবহার হচ্ছে। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করে, উচ্চ আদালতে আপিলে তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবাদের উচ্চহারের জন্য পরিচিত পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা একটি অতি স্পর্শকাতর বিষয়। সেখানে ইসলামের নবী ও মুসলিমদের কাছে পবিত্র গ্রন্থ কোরান অবমাননার কারণে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। দিনদিন দেশটিতে এ সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড ও দলবদ্ধ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। আল-জাজিরার হিসেবে, ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৭৫ জন মানুষকে এমন অভিযোগে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, যাকে অভিযুক্ত করা হয়, যিনি তার পক্ষে আদালতে লড়েন, তার পরিবারের সদস্য ও যে বিচারক ঝুঁকি নিয়ে এসব মামলায় নিরপেক্ষ রায় দেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু ও ভিন্নমত পোষণকারীদের দমাতে প্রচলিত এই মধ্যযুগীয় আইনের অপব্যাবহার বেড়ে চলেছে।

হাফিজ সম্মানজনক ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স করেন। আমেরিকান সাহিত্য, আলোকচিত্র ও থিয়েটার বিষয়ে তাঁর বিশেষত্ব রয়েছে। পাকিস্তানে ফিরে হাফিজ মুলতানের বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় সেখানেই কর্মরত ছিলেন তিনি।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

সোমবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯ ১:৩০ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯ ১:০২ পূর্বাহ্ণ

কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিতর্কিত ব্লাসফেমি আইনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে পাকিস্তানের এক শিক্ষাবিদ ও প্রফেসরকে। দেশটির মুলতান জেলা ও সেশন কোর্টের বিচারক শনিবার এ রায় দেন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। পাকিস্তানের এমন বিচারব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষকের নাম জুনায়েদ হাফিজ (৩৩)। মুলতানে বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে ভিজিটিং লেকচারার ছিলেন তিনি। তাঁকে ২০১৩ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য পোস্ট করেছেন।মুলতানের ওই আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। দীর্ঘ বিচারকার্য শেষে শনিবার তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

জুনায়েদ হাফিজের প্রথম আইনজীবী ছিলেন রশিদ রেহমান। হাফিজের পক্ষে মামলা লড়তে রাজি হওয়ার পর ২০১৪ সালে রশিদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর কারাগারে একাধিকবার অন্য বন্দীদের হামলার শিকার হন হাফিজ। পরে তাঁকে একটি সেলে একাকী অবস্থায় বন্দী রাখা হয়। হাফিজের বর্তমান আইনজীবী নিজেও ইসলামপন্থীদের হুমকির মুখে রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলাকালীন যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় তা ভয়াবহ। তিনি লাহোর হাইকোর্টে এ মামলা নিয়ে আপিল করবেন বলে জানান। এমন পরিবেশে কোনো বিচারক ন্যায় বিচার করার ঝুঁকি নেবে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।হাফিজের আইনজীবী আরো বলেন, হাফিজ বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। যখন আমি তার সঙ্গে কথা বলতাম তিনি সবসময় হাসিমুখে কথা বলতেন। কিন্তু এতদিনের নির্জন কারাবাসের কারণে তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মুলতানের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন হাফিজ। সেই কারাগারেই রায় ঘোষণা করেন আদালত।

দ্য ডন অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলায় হাফিজের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। তিনটি অভিযোগেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন আদালত।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা সহকর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই রায়ে ‘চরম হতাশা’ ও ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে। এই রায়কে ‘ন্যায়বিচারের চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংগঠনটি।অ্যামনেস্টির পাকিস্তান বিষয়ক গবেষক রাবিয়া মেহমুদ বলেন, জুনায়েদ হাফিজের মৃত্যুদণ্ড আইনের অপব্যাবহারের স্পষ্ট উদাহরণ। মুলতান আদালতের এই রায় চূড়ান্ত পর্যায়ের হতাশাজনক ও বিষ্ময়কর। জুনায়েদের এই দীর্ঘ মামলা ও তার রায় পুরোটাই একটি প্রহসন ও পক্ষপাতদুষ্ট।

শনিবার এই রায়ের নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনও। এতে বলা হয়, এই রায়ে ভীতির প্রদর্শন হয়েছে। পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন বিশ্বাস করে, ব্লাসফেমি আইনের যথেচ্ছ অপব্যাবহার হচ্ছে। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করে, উচ্চ আদালতে আপিলে তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবাদের উচ্চহারের জন্য পরিচিত পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা একটি অতি স্পর্শকাতর বিষয়। সেখানে ইসলামের নবী ও মুসলিমদের কাছে পবিত্র গ্রন্থ কোরান অবমাননার কারণে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। দিনদিন দেশটিতে এ সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড ও দলবদ্ধ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। আল-জাজিরার হিসেবে, ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৭৫ জন মানুষকে এমন অভিযোগে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, যাকে অভিযুক্ত করা হয়, যিনি তার পক্ষে আদালতে লড়েন, তার পরিবারের সদস্য ও যে বিচারক ঝুঁকি নিয়ে এসব মামলায় নিরপেক্ষ রায় দেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু ও ভিন্নমত পোষণকারীদের দমাতে প্রচলিত এই মধ্যযুগীয় আইনের অপব্যাবহার বেড়ে চলেছে।

হাফিজ সম্মানজনক ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স করেন। আমেরিকান সাহিত্য, আলোকচিত্র ও থিয়েটার বিষয়ে তাঁর বিশেষত্ব রয়েছে। পাকিস্তানে ফিরে হাফিজ মুলতানের বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় সেখানেই কর্মরত ছিলেন তিনি।

Please follow and like us:
error0

Comments

comments

X
error