শনিবার, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
শিরোনাম
  • **আজ পবিত্র শবেবরাত** দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২০ জনের প্রাণহানি ঘটলো**ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার থেকে এই যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মকর্তারা**ব্যাপক হারে মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যুমো** বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।ফাঁসি যেকোনো দিন**
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯ ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

মার্কিন কংগ্রেসে অভিশংসন প্রতিবেদনের ওপর ভোট আজ

আজ  বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হচ্ছে।বুধবারের ঐতিহাসিক এ দিনটি শুরু হয়েছে অভিশংসন প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের মধ্য দিয়ে।বিতর্ক শেষেই হবে ভোট। স্থানীয় সময় বিকালে কিংবা সন্ধ্যার দিকে এ ভোটাভুটি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে কিনা তা নিয়ে ভোটাভুটির জন্য প্রস্তুত মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেইনকে দুর্নীতির তদন্ত করতে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এ ঘটনার তদন্তে কংগ্রেসকে বাধা দেওয়া—এ দুই অভিযোগে ট্রাম্প অভিযুক্ত হয়েছেন।হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির আনীত এই দুই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৈরি করা প্রতিবেদনের ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।ট্রাম্পকে এ দুটি অভিযোগে অভিশংসিত করার প্রস্তাব গত শুক্রবারেই ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে ২৩-১৭ ভোটে পাস হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস হয়ে যাবে বলেই ধারণা করছেন সবাই। এরই মধ্যে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রথমে প্রতিবেদনটির ওপর দুই দলের নেতারা বিতর্কে অংশ নেবেন এবং পরে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা হবে কি হবে না, সে বিষয়ে ভোট দেবেন। নিম্নকক্ষে উভয় দল পার্টি লাইনেই ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত হাউজে প্রস্তাবটি পাস হলে এরপর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হবে কি-না তা নির্ধারণ করবে রিপাবলিকান অধুষ্যিত সিনেট। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণেই সিনেটে জানুয়ারিতে শুরু হবে বিচার এবং এতে প্রেসিডেন্ট শেষমেশ খালাসও পেয়ে যেতে পারেন।

ট্রাম্পের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দুইজন প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসন এবং বিল ক্লিনকন অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে কাউকেই সিনেট ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেনি।

এবার মার্কিন প্রিতিনিধি পরিষদ অভিসংশন প্রস্তাব পাস করলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্প হবেন অভিশংসিত হওয়া তৃতীয় প্রেসিডেন্ট।

হাউজের সদস্যরা বুধবার অভিসংশন প্রস্তাবে (আরটিকেল অব ইমপিচমেন্ট) তুলে ধরা অভিযোগগুলোর তথ্য-প্রমাণ ভাল করে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখে তারপরই ভোট দিতে মনস্থির করবেন ।হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বরতমান সদস্যসংখ্যা ৪৩১।সুতরাং,সব সদস্য উপস্থিত থাকলে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হতে লাগবে ২১৬ ভোট।

ভোটের আগে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির ২৩২ জন সদস্যের সবার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তিনি সবাইকে সংবিধান অনুসরণ ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে পুরো অভিশংসন-প্রক্রিয়াকেই ‘বিরাট ভাঁওতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই দিনে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে একটি দীর্ঘ চিঠি লেখেন তিনি। চিঠিতে ট্রাম্প এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘বিচারের বিকৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি এই তদন্তকে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বুধবার এক টুইটে লিখেছেন, ‘এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে, আজ আমি বামপন্থীদের দ্বারা অভিশংসিত হতে যাচ্ছি। কোনো ভুল করিনি আমি। কী ভয়াবহ ব্যাপার!’

তবে অভিশংসিত হওয়া মানেই ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়া নয়। নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি পাস হলে আগামী মাসে অভিশংসন বিচার শুরু হবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সেখানে বিচারকাজের ভার গিয়ে পড়তে পারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির ওপর। এ জন্য পৃথক কমিটি করা হবে। সেখানে বিচার শেষে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়ে আবার ভোট হবে। এতে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পড়লেই কেবল তাঁকে অপসারণ করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা থেকে অপসারিত হননি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, সিনেটে তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের তেমন কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

সাধারণ আমেরিকানদের প্রায় অরধেকই ট্রাম্পকে অভিশংসন এবং ক্ষমতা থেকে সরানোর পক্ষ সমর্থন করছে বলেই দেখা যাচ্ছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ এবং সিএনএন পরিচালিত নতুন জরিপে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

মার্কিন কংগ্রেসে অভিশংসন প্রতিবেদনের ওপর ভোট আজ

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেটঃ ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯ ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ

আজ  বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হচ্ছে।বুধবারের ঐতিহাসিক এ দিনটি শুরু হয়েছে অভিশংসন প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের মধ্য দিয়ে।বিতর্ক শেষেই হবে ভোট। স্থানীয় সময় বিকালে কিংবা সন্ধ্যার দিকে এ ভোটাভুটি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে কিনা তা নিয়ে ভোটাভুটির জন্য প্রস্তুত মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেইনকে দুর্নীতির তদন্ত করতে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এ ঘটনার তদন্তে কংগ্রেসকে বাধা দেওয়া—এ দুই অভিযোগে ট্রাম্প অভিযুক্ত হয়েছেন।হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির আনীত এই দুই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৈরি করা প্রতিবেদনের ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।ট্রাম্পকে এ দুটি অভিযোগে অভিশংসিত করার প্রস্তাব গত শুক্রবারেই ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটিতে ২৩-১৭ ভোটে পাস হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস হয়ে যাবে বলেই ধারণা করছেন সবাই। এরই মধ্যে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রথমে প্রতিবেদনটির ওপর দুই দলের নেতারা বিতর্কে অংশ নেবেন এবং পরে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা হবে কি হবে না, সে বিষয়ে ভোট দেবেন। নিম্নকক্ষে উভয় দল পার্টি লাইনেই ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত হাউজে প্রস্তাবটি পাস হলে এরপর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হবে কি-না তা নির্ধারণ করবে রিপাবলিকান অধুষ্যিত সিনেট। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণেই সিনেটে জানুয়ারিতে শুরু হবে বিচার এবং এতে প্রেসিডেন্ট শেষমেশ খালাসও পেয়ে যেতে পারেন।

ট্রাম্পের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দুইজন প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসন এবং বিল ক্লিনকন অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে কাউকেই সিনেট ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেনি।

এবার মার্কিন প্রিতিনিধি পরিষদ অভিসংশন প্রস্তাব পাস করলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্প হবেন অভিশংসিত হওয়া তৃতীয় প্রেসিডেন্ট।

হাউজের সদস্যরা বুধবার অভিসংশন প্রস্তাবে (আরটিকেল অব ইমপিচমেন্ট) তুলে ধরা অভিযোগগুলোর তথ্য-প্রমাণ ভাল করে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখে তারপরই ভোট দিতে মনস্থির করবেন ।হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বরতমান সদস্যসংখ্যা ৪৩১।সুতরাং,সব সদস্য উপস্থিত থাকলে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হতে লাগবে ২১৬ ভোট।

ভোটের আগে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির ২৩২ জন সদস্যের সবার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তিনি সবাইকে সংবিধান অনুসরণ ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে পুরো অভিশংসন-প্রক্রিয়াকেই ‘বিরাট ভাঁওতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই দিনে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে একটি দীর্ঘ চিঠি লেখেন তিনি। চিঠিতে ট্রাম্প এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘বিচারের বিকৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি এই তদন্তকে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বুধবার এক টুইটে লিখেছেন, ‘এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে, আজ আমি বামপন্থীদের দ্বারা অভিশংসিত হতে যাচ্ছি। কোনো ভুল করিনি আমি। কী ভয়াবহ ব্যাপার!’

তবে অভিশংসিত হওয়া মানেই ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়া নয়। নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি পাস হলে আগামী মাসে অভিশংসন বিচার শুরু হবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সেখানে বিচারকাজের ভার গিয়ে পড়তে পারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির ওপর। এ জন্য পৃথক কমিটি করা হবে। সেখানে বিচার শেষে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়ে আবার ভোট হবে। এতে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পড়লেই কেবল তাঁকে অপসারণ করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা থেকে অপসারিত হননি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, সিনেটে তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের তেমন কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

সাধারণ আমেরিকানদের প্রায় অরধেকই ট্রাম্পকে অভিশংসন এবং ক্ষমতা থেকে সরানোর পক্ষ সমর্থন করছে বলেই দেখা যাচ্ছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ এবং সিএনএন পরিচালিত নতুন জরিপে।

Please follow and like us:
error0

Comments

comments

X
error