শুক্রবার, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
শিরোনাম
  • **কাসেম সোলেমানির ঘনিষ্ঠ স্থানীয় কমান্ডার আব্দেলহোসেইন মোজাদ্দামিকে বুধবার তার বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করেছে দুই মুখোশধারী**রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)** রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সংবিধান আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে সমর্থন করেছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমা** রুট 19 এর নাম বদলে গভর্নর ফিল মারফি মঙ্গলবার বিল প্যাসক্রেলের নামে সড়ক নামকরণের একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন** প্যাটারসনে মেইন স্ট্রিটে পীষ্ঠ হয়ে ৬১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু** ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ব্যবস্থা চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক**
সোমবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৯ ৯:১৮ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও নির্যাতনের শিকার হন নারীরা

সারা বিশ্বে নানাভাবে নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ঘর থেকে শুরু করে অফিস; সর্বত্র নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন নারীরা। আর এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও তারা নির্যাতনের শিকার হন। সংস্থাটি জানায়, অবিবাহিত, বয়সে তরুণী ও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা নারীরা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার বেশি হন। তবে এ বিষয়ে সাধারণত মুখ খুলেন না নির্যাতিতারা।

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি গবেষণা পরিচালনা করে। এতে দেখা যায়, শতকরা ৪২ ভাগ নারী সন্তান জন্মদানের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শারীরিক, মৌখিক কিংবা অন্য কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হন। গবেষণাটি ২০১৬ জন সন্তান জন্মদানকারী মাকে পর্যবেক্ষণ ও সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়ার পর ২৬৭২ জন নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, ঘানা, গিনি, নাইজেরিয়া ও মিয়ানমারের এক তৃতীয়াংশ নারী এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবে এ ধরনের ঘটনা সারা বিশ্বেই ঘটে থাকে। সন্তান জন্মদানের ৩০ মিনিট আগ থেকে ১৫ মিনিট পর পর্যন্ত সময়ে নারীরা এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া শতকরা ৩০ ভাগ মা জানান, অনুমতি ছাড়াই তাদের সিজার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। শতকরা ৫৭ ভাগ জানান, সন্তান জন্মদানের পর তাদের কোনো ব্যাথানাশক দেওয়া হয়নি। সন্তান জন্মদানের পর হাসপাতালের বিল দিতে না পারার কারণে অনেককেই আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।

সন্তান জন্মদানের সময়টিতে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় মায়েদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন গবেষকরা। অর্থাৎ, কোনো ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি নেওয়ার আগে মায়েদের এ সম্পর্কে জানানো ও তাদের অনুমতি নেওয়া। হাসপাতালগুলোর প্রসূতিসেবা বিভাগগুলো ঢেলে সাজানোর প্রস্তাবও দিয়েছে গবেষণাটি, যেন মায়েদের গোপনীয়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সুইডেনের একজন ডাক্তার কাজ করতেন দক্ষিণ ভারতের একটি হাসপাতালে। তিনি জানান, ডাক্তাররা অনেক চাপের মধ্যে কাজ করেন। যেমন, একটি ওয়ার্ডে ২০ জন, কোনো কোনো ওয়ার্ডে ৩০ জন রোগীও থাকে। আর ডাক্তার থাকেন মাত্র দু'জন। ডাক্তারদের দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

রোগীর এ চাপ সামলাতে গিয়ে ডাক্তাররা বার্থ ক্যানেল চিড়ে বড় করে দেওয়ার মতো প্রক্রিয়াও গ্রহণ করেন যেন জন্মদান প্রক্রিয়াটি দ্রুত হয়। অনেক সময়ই এটি করা হয় মায়েদের অনুমতি না নিয়ে। এ ধরনের পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি সীমিত জনবল, প্রযুক্তি এবং ডাক্তারদের সময়ের চাপের কথা উল্লেখ করেছেন। এমন অবস্থা কাটাতে প্রয়োজন একটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যসেবা, বলেন তিনি।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও নির্যাতনের শিকার হন নারীরা

সোমবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৯ ৯:১৮ অপরাহ্ণ

সারা বিশ্বে নানাভাবে নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ঘর থেকে শুরু করে অফিস; সর্বত্র নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন নারীরা। আর এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও তারা নির্যাতনের শিকার হন। সংস্থাটি জানায়, অবিবাহিত, বয়সে তরুণী ও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা নারীরা এ ধরনের নির্যাতনের শিকার বেশি হন। তবে এ বিষয়ে সাধারণত মুখ খুলেন না নির্যাতিতারা।

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি গবেষণা পরিচালনা করে। এতে দেখা যায়, শতকরা ৪২ ভাগ নারী সন্তান জন্মদানের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শারীরিক, মৌখিক কিংবা অন্য কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হন। গবেষণাটি ২০১৬ জন সন্তান জন্মদানকারী মাকে পর্যবেক্ষণ ও সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়ার পর ২৬৭২ জন নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, ঘানা, গিনি, নাইজেরিয়া ও মিয়ানমারের এক তৃতীয়াংশ নারী এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবে এ ধরনের ঘটনা সারা বিশ্বেই ঘটে থাকে। সন্তান জন্মদানের ৩০ মিনিট আগ থেকে ১৫ মিনিট পর পর্যন্ত সময়ে নারীরা এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া শতকরা ৩০ ভাগ মা জানান, অনুমতি ছাড়াই তাদের সিজার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। শতকরা ৫৭ ভাগ জানান, সন্তান জন্মদানের পর তাদের কোনো ব্যাথানাশক দেওয়া হয়নি। সন্তান জন্মদানের পর হাসপাতালের বিল দিতে না পারার কারণে অনেককেই আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।

সন্তান জন্মদানের সময়টিতে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় মায়েদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন গবেষকরা। অর্থাৎ, কোনো ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি নেওয়ার আগে মায়েদের এ সম্পর্কে জানানো ও তাদের অনুমতি নেওয়া। হাসপাতালগুলোর প্রসূতিসেবা বিভাগগুলো ঢেলে সাজানোর প্রস্তাবও দিয়েছে গবেষণাটি, যেন মায়েদের গোপনীয়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সুইডেনের একজন ডাক্তার কাজ করতেন দক্ষিণ ভারতের একটি হাসপাতালে। তিনি জানান, ডাক্তাররা অনেক চাপের মধ্যে কাজ করেন। যেমন, একটি ওয়ার্ডে ২০ জন, কোনো কোনো ওয়ার্ডে ৩০ জন রোগীও থাকে। আর ডাক্তার থাকেন মাত্র দু’জন। ডাক্তারদের দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

রোগীর এ চাপ সামলাতে গিয়ে ডাক্তাররা বার্থ ক্যানেল চিড়ে বড় করে দেওয়ার মতো প্রক্রিয়াও গ্রহণ করেন যেন জন্মদান প্রক্রিয়াটি দ্রুত হয়। অনেক সময়ই এটি করা হয় মায়েদের অনুমতি না নিয়ে। এ ধরনের পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি সীমিত জনবল, প্রযুক্তি এবং ডাক্তারদের সময়ের চাপের কথা উল্লেখ করেছেন। এমন অবস্থা কাটাতে প্রয়োজন একটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যসেবা, বলেন তিনি।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

Please follow and like us:
error0

Comments

comments

X
error