১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:২২, বুধবার

  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
আজ প্রচারের শেষ দিন, নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১ দল
Reporter Name / ৯ Time View
Update : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

র্দীঘ প্রতিকুলতার পর ভোট উৎসবের সময় বাংলাদেশে । আজ সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার। এখন কেবল অপেক্ষা ব্যালটযুদ্ধের। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে এ ঐতিহাসিক জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। ভোটাররা বেছে নেবেন তাদের নিজ এলাকার আইনপ্রণেতাকে।

গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অবিশ্বাস আর হতাশার জন্ম হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা ছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও বিশেষ নিরাপত্তা-সংবলিত ব্যালট পেপার এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ের ট্রেজারিগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক বছরগুলোর চেয়ে সব থেকে বেশি। আওয়ামী লীগবিহীন এ নির্বাচনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী প্রধান দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

’২৪-এর ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অনেক শরিক দলও নৈতিক অবস্থান বা কৌশলগত কারণে এ ভোট বর্জন করছে। তবে দলীয় প্রার্থীর বাইরেও বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনি পরিবেশ মোটামুটি শান্ত থাকলেও পুরোপুরি রক্তপাতহীন থাকেনি মাঠ।

এবারের বিশেষ আকর্ষণ গণভোট : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবার ভোটারদের সামনে থাকছে ‘গণভোট’-এর ব্যালট।

ভোটারদের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ : রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক গ্রাম সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন বৃহস্পতিবারের ভোট। সাধারণ ভোটাররা চান একটি ভীতিমুক্ত পরিবেশ, যেখানে তারা নির্ভয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এবার ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, যারা ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর প্রথমবার ভোট দেবেন। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও ছোট দলগুলোর মধ্যে আসনভিত্তিক রেষারেষি কেন্দ্র দখলের আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা চলছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ‘এ নির্বাচনের সার্থকতা কেবল ভোট গ্রহণে নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করছে।’

প্রচার-প্রচারণা : গতকাল শেষ সময়ের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিভিন্ন এলাকার প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সকাল থেকেই প্রার্থীরা রাজপথ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। মিছিল, স্লোগান আর গণসংযোগে মুখরিত ছিল বন্দরনগরী ও জেলার উপজেলাগুলো। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার সব আসনের প্রার্থীরাই এদিন গণমিছিল ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছেন। একই ধরনের কর্মসূচি পালনের খবর পাঠিয়েছেন বাগেরহাট, মাগুরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, ঝালকাঠি, ঝিনাইদহ, মুন্সিগঞ্জ, ফেনী ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category