৯ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৪১, মঙ্গলবার

  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সেমি-ফাইনালে সিটি
রিপোর্টারের নাম / ৩০ বার
আপডেট সময় মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২

ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় বুধবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ গোলশূন্য ড্র হয়। ফলে প্রথম লেগের ১-০ গোলের জয়ে শেষ চারের টিকেট পায় সিটি।

পারফরম্যান্সের বিচারে ৯০ মিনিটের লড়াইটিকে অনায়াসে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ম্যাচ পরিসংখ্যানেও যা পরিষ্কার।

বল দখলে আধিপত্য করে বিরতির আগে গোলের জন্য মোট আটটি শট নেয় সিটি, যদিও তার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। পরের ধাপে ঘর সামলাতে ব্যস্ত দলটি শট নিতে পারে মাত্র আর দুটি। বিপরীতে, প্রথমার্ধে মাত্র একটি শট নেওয়া আতলেতিকো দ্বিতীয়ভাগে নেয় ১৩টি! সব মিলিয়ে যদিও মাত্র তিনটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথম লেগে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খেলেও জাল অক্ষত রাখা যায়নি, তাই এবার কৌশলে একটু বদল না এনে উপায় ছিল না আতলেতিকোর। টিকে থাকতে গোল করতেই হবে-সেই লক্ষ্যে শুরু থেকে আক্রমণে একটু চেষ্টা করতে দেখা যায় তাদের।

তাতে সিটির আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য জায়গাও খোলে। কিন্তু গত সপ্তাহের সিটিকে এদিন শুরুতে দেখা যায়নি। দশম মিনিটে প্রথম সুযোগটি অবশ্য তারাই পায়; ইলকাই গিনদোয়ানের কর্নারে জন স্টোনসের হেড ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে যায়।

সময়ের সঙ্গে আক্রমণের ধার বাড়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের। ৩০তম মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি গিনদোয়ান। কাছ থেকে তার নিচু শট পোস্টে বাধা পায়।

৩৫তম মিনিটে গোলের উদ্দেশ্যে এই অর্ধে নিজেদের প্রথম ও একমাত্র শট নেয় স্বাগতিকরা; ২৫ গজ দূর থেকে জিওফ্রি কোন্দোগবিয়ার শট কেভিন ডে ব্রুইনের পায়ে লেগে গতি কমে যায়, ঠেকাতে সমস্যা হয়নি গোলরক্ষকের। বিরতির পর আতলেতিকো মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রথম ১২ মিনিটে তিনটি ভালো আক্রমণও করে তারা। প্রথমবার বক্সে বলে পা লাগাতে পারেননি জোয়াও ফেলিক্স। দ্বিতীয়বার তার হেড যায় ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে। আর ৫৭তম মিনিটে সেরা সুযোগটি পান অঁতোয়ান গ্রিজমান। কিন্তু ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার শট পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে যায়।

প্রিয় দলের ধার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেত্রোপলিতানোর গর্জনও তখন তুঙ্গে। চাপের মুখে বিপদ বুঝেই কি-না নিজেদের গতি কমিয়ে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে সিটি।

খানিক পর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের রেনান লোদির সঙ্গে ধাক্কা লেগে বেকায়দায় পড়ে যান কাইল ওয়াকার। মাঠে অনেকক্ষণ পড়ে থাকার সময় তার চোখে-মুখে ছিল ব্যথার ছাপ। উঠে খেলা শুরু করলেও চালিয়ে যেতে পারেননি ইংলিশ ডিফেন্ডার, বদলি নামেন নাথান আকে।

শেষ ১০ মিনিটে সিটির ওপর দিয়ে আক্রমণের ঢেউ বইয়ে দেয় আতলেতিকো। সুযোগও মেলে বেশ কয়েকটি। ৮৬তম মিনিটে মাথেউস কুইয়ার শট প্রতিহত করেন স্টোনস। পরক্ষণে স্তেফান সাভিচের কাছ থেকে নেওয়া শট বাইরে যায়।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ওঠা ফিল ফোডেনকে দারুণ ট্যাকলে আটকান আতলেতিকো ডিফেন্ডার ফেলিপে। কিন্তু পড়ে গিয়েই ব্যথায় কাতরাতে থাকেন সিটি মিডফিল্ডার। ছুটে গিয়ে তাকে যেন ‘সময় নষ্ট না করে’ ওঠার তাগিদ দেন সাভিচ, জোর করে তোলার চেষ্টাও করেন তিনি।

 

এতেই দুই দলের খেলোয়াড়রা বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সাভিচ ও আকেকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কিছুক্ষণ পর খেলা শুরু হতেই খানিক আগের ঘটনার জেরে মেজাজ হারিয়ে ফোডেনকে ফাউল করে বহিষ্কার হন ফেলিপে।

৯ মিনিট যোগ করা সময়েও ফাউলের ঘটনায় খেলা বন্ধ হয়েছে বারবার। এই সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ম্যাচ শেষ করে দেওয়া সুবর্ণ সুযোগ পান গিনদোয়ান, তবে তার শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক।

তিন মিনিট পর বক্সের বাঁ দিকের ঠিক বাইরে থেকে ইয়ানিক কারাসকোর ফ্রি কিক পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক এদেরসন। শেষ মুহূর্তেও ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আতলেতিকো; কিন্তু আনহেল কোররেয়ার শট রুখে দিয়ে শেষ চারের টিকেট নিশ্চিত করেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সিটির প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ। আরেক ইংলিশ ক্লাব ও গতবারের শিরোপা জয়ী চেলসিকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর