বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। তবে জয়ের পরও পুরোপুরি স্বস্তিতে ছিলেন না অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি হাতছাড়া করায় নিজের ওপরই হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিম গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন। কয়েক মিনিট পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে, যখন তারা একটি পেনাল্টি পায়। কিন্তু মেসির নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
পেনাল্টি মিসের ঘটনাটি ম্যাচজুড়েই মেসিকে পীড়া দিয়েছে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারায় নিজের ওপর খুবই বিরক্ত ছিলাম। তখন গোল করতে পারলে ম্যাচের গতিপথ আরও আগেই আমাদের দিকে চলে আসতে পারত।”
যদিও দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা নিজেদের চরিত্রের পরিচয় দেয়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও লড়াই ছাড়েনি তারা। ৭৯ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর নিজেই সমতাসূচক গোল করেন মেসি। এরপর যোগ করা সময়ে ইংলিশ ক্লাব চেলসির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে শেষ আটে পৌঁছে দেন।
নাটকীয় এই জয়ের পর মেসি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা হাল ছাড়িনি। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসে জয় পাওয়া সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। এই ধরনের ম্যাচই বিশ্বকাপকে আলাদা করে তোলে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ভালো খেলছিলাম এবং একাধিক সুযোগও তৈরি করেছিলাম। তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। শেষ পর্যন্ত দলের জন্য গোল করতে পারায় আমি আনন্দিত।”
এই ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। তবে পেনাল্টি মিস করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। টাইব্রেকার বাদে একই বিশ্বকাপ আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার এখন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পটকিক থেকে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।
ম্যাচে মেসির একটি ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া শোবেইরের একাধিক দুর্দান্ত সেভের কারণে আরও কয়েকবার গোলের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।তবুও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে অনন্য ছিলেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি একাধিক সফল ড্রিবল ও ওপেন প্লে থেকে অসংখ্য গোলের সুযোগ তৈরি করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশেষ একটি কীর্তি গড়েছেন মেসি।
মিশরের বিপক্ষে গোলটি ছিল বিশ্বকাপে তার ২১তম গোল। একই সঙ্গে রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্টের সংখ্যাও বাড়িয়ে ৯-এ নিয়ে গেছেন, যা দিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেসির এটি অষ্টম গোল। এর ফলে গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি এবং ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের গড়া এক আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ আট গোলের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন।
মেসি বলেন, “এই দল সব সময় বিশ্বাস করে যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলে কিছু না কিছু সম্ভব। আমরা সেই বিশ্বাস নিয়েই খেলেছি এবং তারই পুরস্কার হিসেবে জয় পেয়েছি।” এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন আরও জোরালো করেছে আর্জেন্টিনা।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠাই মেসিদের পরবর্তী লক্ষ্য।